মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় রাস্তা মেরামতের জন্য মাটি কাটতে গিয়ে মাটির নিচ থেকে ৯৬টি অ্যান্টি-পার্সোনেল ও অ্যান্টি-ট্যাংক মাইন উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধের সময় এসব মাইন মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়েছিল। দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ দশক মাটির নিচে থাকার পরও মাইনগুলো সক্রিয় ছিল।
সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট মাইনগুলো উদ্ধার করে নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করে।
এর আগে, শনিবার দুপুরে গাংনী উপজেলার কাজীপুর ইউনিয়নের বেতবাড়িয়া গ্রামে রাস্তা মেরামতের জন্য মাটি কাটার সময় মাইনসদৃশ বস্তুগুলোর সন্ধান পাওয়া যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাড়ি তৈরির ইট আনার সুবিধার জন্য রাস্তার পাশের একটি উঁচু জায়গা থেকে মাটি কেটে রাস্তায় ফেলার পরে বৃষ্টির পানিতে ওই মাটি ধুয়ে গেলে একটি প্লাস্টিকের টুলবক্সের ভেতর মাইনসদৃশ বস্তু দেখতে পান তারা।
বিষয়টি জানাজানি হলে গাংনী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকা ঘিরে ফেলে। দুর্ঘটনা এড়াতে সাধারণ মানুষের চলাচল সীমিত করা হয়। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীর বম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানো পর্যন্ত এলাকাটি নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যে রাখা হয়।
সোমবার বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে মাইনগুলো উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয় করার অভিযান চলে। যশোরের ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের ৩ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নের বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এ অভিযান পরিচালনা করে। ১৯ সদস্যের বিশেষজ্ঞ দলের নেতৃত্ব দেন মেজর তরিকুল ইসলাম।
সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ দল ৭৯টি অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন এবং ১৭টি অ্যান্টি-ট্যাংক মাইন উদ্ধার করে। পরে মাইনগুলো নিরাপদ দূরত্বে স্থানীয় মধুগাড়ী নদীর তীরে নিয়ে গিয়ে নিয়ন্ত্রিতভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয়।
মেজর তরিকুল ইসলাম জানান, উদ্ধার করা মাইনগুলো শক্তিশালী ছিল। এর মধ্যে ৭৯টি ছিল মানববিধ্বংসী এবং ১৭টি ট্যাংকবিধ্বংসী মাইন। নিষ্ক্রিয় করার সময় দুটি মাইন শক্তিশালী বিস্ফোরণে ধ্বংস করা হয়। এতে আশপাশের এলাকা কেঁপে ওঠে।
দীর্ঘ সময় মাটির নিচে থাকার পরও মাইনগুলো সক্রিয় থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। তবে সেনাবাহিনীর বম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের অভিযানের পর এলাকাটি ঝুঁকিমুক্ত হয়েছে।


