ভালো বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ফেনী ও হবিগঞ্জের চার তরুণকে টেকনাফে এনে পাহাড়ের আস্তানায় আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে তাদের উদ্ধার করা হলেও অপহরণকারী চক্রের সদস্যরা পালিয়ে যায়।
উদ্ধার হওয়া চার তরুণ হলেন ফেনীর গণিপুর গ্রামের এমাম হোসেন (১৯) ও জিসান (২৩), রামপুর এলাকার তৌহিদুল ইসলাম (১৯) এবং হবিগঞ্জের সুমন মিয়া ওরফে হোসাইন (২২)। গত ২৭ জুন তাঁদের চাকরির আশ্বাস দিয়ে টেকনাফে নেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দুপুরে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গিখালী জুম্মাপাড়া পাহাড়ে প্রায় আড়াই ঘণ্টার অভিযান চালিয়ে চারজনকে উদ্ধার করা হয়। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা পাহাড়ি জঙ্গলে পালিয়ে যায়।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, অপহরণের মূল হোতা হিসেবে টেকনাফের রঙ্গিখালী এলাকার বাসিন্দা রাসেলের নাম উঠে এসেছে। ফেনীতে কাজ করার সুবাদে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ছিল। সেই পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে চাকরির কথা বলে তাঁদের টেকনাফে এনে পাহাড়ে আটকে রাখা হয় এবং পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অপহরণকারীরা ভুক্তভোগীদের পরিবারের কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা না দিলে তাঁদের হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকিও দেওয়া হয়। একপর্যায়ে একটি পরিবার ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করে।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া চার তরুণকে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। একই সঙ্গে অপহরণের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।


