রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায় খেদারমারা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১৩) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত রাসেল চাকমা (৩০) একই এলাকার বাসিন্দা এবং ভিকটিমের প্রতিবেশী। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী সমাজপতি মহল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুলাই বিকেলে নিজ নানীর বাড়িতে থাকা অবস্থায় ভিকটিম ধর্ষণের শিকার হয়। ভারী বৃষ্টি ও নানীর শ্রবণ প্রতিবন্ধকতার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি প্রকাশ পায়নি। পরে মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়লে ঘটনা প্রকাশ্যে আসে।
ভিকটিমের বাবা লংগদু উপজেলার গুলশাখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা মিঠুন চাকমা অভিযোগ করেন, ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় যুব সমাজের একটি চক্র তার পরিবারকে হুমকি দিতে শুরু করে। প্রশাসনকে জানালে আর্থিক জরিমানা ও গুম করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন। নিরাপত্তার শঙ্কায় গত ২৩ জুলাই তিনি অসুস্থ মেয়েকে উদ্ধার করে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান।
অভিযোগ উঠেছে, সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পাহাড়ের আঞ্চলিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন জেএসএসের প্রভাব খাটিয়ে ভিকটিমের পরিবারকে নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে উত্তর দক্ষিণ পাবলাখালী যুব সমাজের একটি প্রভাবশালী চক্র। ভিকটিমের পরিবারকে হুমকি দেওয়ার পেছনে রিয়েল চাকমা, পিতা শষানকো চাকমা, সুপন চাকমা, পিতা শান্তি লাল চাকমা, কালাধন চাকমা, পিতা আনন্দ চাকমা ও শুদ্ধধন চাকমা, পিতা মৃত লক্ষীনাথ চাকমাসহ আরও কয়েকজন জড়িত বলে জানা গেছে। তারা সকলেই উত্তর দক্ষিণ পাবলাখালী যুব সমাজের সদস্য।
এতে আরও জানা যায়, প্রশাসন বা কোনো ইউপি মেম্বার-চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানালে ভিকটিমের পরিবারকে মোটা অঙ্কের আর্থিক জরিমানা এবং পরবর্তীতে জেএসএসের নাম ভাঙিয়ে গুম করার হুমকি দেওয়া হয়। প্রাণভয়ে ও সুষ্ঠু বিচারের অনিশ্চয়তায় পড়ে গত ২৩ জুলাই ভিকটিমের বাবা মিঠুন চাকমা অসুস্থ মেয়েকে উদ্ধার করে লংগদু উপজেলার গুলশাখালীস্থ নিজ বাড়িতে নিয়ে যান।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা মুঠোফোনে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এলাকায় বিষয়টি জানাজানি হলে বিশেষ একটি মহল বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে যাচ্ছে এবং ভুক্তভোগী পরিবার, আত্মীয়-স্বজনকে হুমকি দিচ্ছে। এতে করে ওই পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে।
স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, অভিযুক্ত রাসেল চাকমা এলাকায় মাদকাসক্ত হিসেবে পরিচিত এবং এর আগেও তার বিরুদ্ধে এক নারীকে যৌন নির্যাতনের চেষ্টার অভিযোগ ছিল।
সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্যের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। খেদারমারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিল্টু চাকমা জানান, তিনি বিষয়টি অবগত হয়েছেন এবং সাবেক চেয়ারম্যান ও স্থানীয় কার্বারী বিশ্বপ্রিয় চাকমাকে অনুসন্ধান করে তথ্য দিতে বলেছেন। তিনি বলেন, অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে অপরাধীকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।
এ বিষয়ে বাঘাইছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছির উদ্দিন মজুমদারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ঘটনাটি নিয়ে একটি প্রভাবশালী মহল ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং ভুক্তভোগী পরিবার ও তাদের আত্মীয়-স্বজনদের হুমকি অব্যাহত রয়েছে। ফলে পরিবারটি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে। এখন পর্যন্ত ঘটনার কোনো আনুষ্ঠানিক আইনি প্রতিকার হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


