কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির পরিদর্শনে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের কর্মকর্তা পর্যায়ের ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। আগামী ২৬ থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিনিধিদলটি বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করবে।
বাংলাদেশের শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিনিধিদলের নিয়মিত সফরের অংশ হিসেবে এ পরিদর্শন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সফরে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।
মিজানুর রহমান জানান, রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। দেশটি তাদের করদাতাদের অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে চায়। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন কার্যক্রমের বাস্তবায়ন পরিস্থিতি দেখতে প্রতিনিধিদলটি ক্যাম্পগুলো পরিদর্শন করবে।
তিনি বলেন, এ সফর অনেকটা নিরীক্ষার মতো। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে যেসব ক্যাম্পে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, প্রতিনিধিদলের সদস্যরা সেসব এলাকা ঘুরে দেখবেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ আইন প্রণয়ন সহকারী নোয়েল ডেইনা প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন। প্রতিনিধিদলে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের দুজন কর্মকর্তাও থাকবেন।
সফরসূচি অনুযায়ী, ২৬ ও ২৭ আগস্ট প্রতিনিধিদলটি উখিয়ার ছয়টি রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করবে। ২৮ আগস্ট টেকনাফের দুটি শিবির পরিদর্শনের কথা রয়েছে।
২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর নির্যাতন ও সহিংসতার মুখে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। কয়েক মাসের মধ্যে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রয় নেয়। এর আগে থেকেই বিভিন্ন শিবিরে আরও প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছিলেন।
সরকারি হিসাবে বর্তমানে মিয়ানমার থেকে আসা প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা উখিয়া ও টেকনাফের আশ্রয়শিবিরগুলোতে বসবাস করছে। তবে নতুন করে অনুপ্রবেশসহ বেসরকারি হিসাবে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত মিলিয়ে বাংলাদেশে রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়।


