টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও উজান থেকে নেমে আসা বন্যার পানিতে চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলায় প্রাণিসম্পদ খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সরকারি প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, বন্যায় বিভাগের পাঁচ জেলায় ১ লাখ ১২ হাজার ৮২৭টি গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি মারা গেছে। খামার, পশুখাদ্য ও অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতি মিলিয়ে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০ কোটি ১৫ লাখ টাকা।

রোববার (১২ জুলাই) বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রকাশিত প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্যায় মারা যাওয়া প্রাণীর মধ্যে রয়েছে ৪৬টি গরু, ১২৩টি ছাগল, ৪০টি ভেড়া, ১ লাখ ১১ হাজার ৯৮টি মুরগি এবং ১ হাজার ৫২১টি হাঁস। শুধু প্রাণী মারা যাওয়ার কারণে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্যায় বিভাগের ৩৬টি উপজেলার ১৫৬টি ইউনিয়নে গবাদিপশুর খাদ্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ খাতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। বন্যার পানিতে নষ্ট হয়েছে মোট ১৮ হাজার ৪৬৮ টন খড়, ঘাস ও দানাদার খাদ্য। এর মধ্যে ১৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা মূল্যের ১১ হাজার ৯২০ টন খড়, ৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা মূল্যের ৬ হাজার ৪৩০ টন কাঁচা ঘাস এবং প্রায় ৭০ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের ১১৮ টন দানাদার খাদ্য নষ্ট হয়েছে।

এ ছাড়া বন্যায় বিভাগের ৩৩টি প্রাণিসম্পদ কার্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্লাবিত হয়েছে ২ হাজার ১২৬ একর চারণভূমি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৬৫টি খামারের ৮৩০টি পশুপাখি। খামার ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর ক্ষতি ধরা হয়েছে প্রায় ৭২ লাখ টাকা।

জেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম জেলা। এখানে ৩৫টি গরু, ৮৭টি ছাগল, ৪০টি ভেড়া, ১ লাখ ৩৯৫টি মুরগি এবং ১ হাজার হাঁস মারা গেছে। প্রাণীর মৃত্যুর কারণে ক্ষতি হয়েছে ২ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। খামার ও খাদ্যসহ জেলার মোট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৮ কোটি ১৭ লাখ টাকা।

কক্সবাজারে মারা গেছে ৮টি গরু, ১২টি ছাগল, ৭ হাজার ৫০৩টি মুরগি এবং ৫২১টি হাঁস। জেলায় প্রাণীর মৃত্যুর ক্ষতি ৭৭ লাখ ৯১ হাজার টাকা এবং মোট ক্ষতি ১ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

পার্বত্য জেলা বান্দরবানে ১টি গরু, ১০টি ছাগল ও ১ হাজার মুরগি মারা গেছে। জেলায় মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১২ লাখ টাকা। রাঙামাটিতে ১টি গরু, ১১টি ছাগল ও ১ হাজার ৫০০টি মুরগি মারা গেছে। সেখানে মোট ক্ষতি হয়েছে ১৪ লাখ ৮৫ হাজার টাকা।

অন্যদিকে খাগড়াছড়িতে ক্ষয়ক্ষতি তুলনামূলক কম হয়েছে। সেখানে ৩টি ছাগল ও ৭০০টি মুরগি মারা গেছে। খাদ্য বিনষ্টসহ জেলায় মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৯ লাখ ১৫ হাজার টাকা।

প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির হিসাব। বন্যার পানি পুরোপুরি নেমে যাওয়ার পর মাঠপর্যায়ে পুনর্মূল্যায়ন করা হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের পুনর্বাসন এবং জরুরি গবাদিপশুর খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তারা।