দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ আবারও বাড়ছে। ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রামেও নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ১০১ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১৩ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। তবে এ সময়ে আক্রান্ত কারো মৃত্যু হয়নি।
মঙ্গলবার (১০ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন আক্রান্তদের সবাই ঢাকার বাসিন্দা। এর আগের দিন (৯ জুন) ৪১ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৫ জন আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছিলেন। ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ২ জন, ফলে মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ১৯ হাজার ৩৭৮ জনে। দেশে মোট শনাক্তের হার ১৩.০৫ শতাংশ এবং গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ১২.৮৭ শতাংশ।
এরই মধ্যে চট্টগ্রামে করোনা শনাক্তের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। চট্টগ্রামের জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন,মঙ্গলবার (১০ জুন) চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এক ব্যক্তির শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এর আগে মা ও শিশু হাসপাতালে আরও দুজনের করোনা শনাক্ত হয়। সবমিলিয়ে চট্টগ্রামে এ বছর এখন পর্যন্ত তিনজন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
সিভিল সার্জন বলেন, “নতুন সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আইসোলেশন হাসপাতাল নির্ধারণ ও কিট সরবরাহের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”
সূত্র জানায়, বর্তমানে চট্টগ্রামে কোভিড শনাক্তের সরকারি কিট নেই, শুধুমাত্র কিছু বেসরকারি হাসপাতালে শনাক্তের কিট রয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা আশা করছেন, কয়েক দিনের মধ্যে নতুন কিট পৌঁছাবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশে কোভিড-১৯-এর নতুন ধরন ছড়িয়ে পড়ছে। ভারতের এনবি ১.৮.১ নামের ভ্যারিয়েন্টও বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, এই ধরনটি দ্রুত ছড়ায় এবং সংক্রমণের হার তুলনামূলক বেশি।
করোনাভাইরাস প্রথম বাংলাদেশে শনাক্ত হয় ২০২০ সালের ৮ মার্চ এবং ওই বছরের ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ২০২১ সালের আগস্টে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর রেকর্ড হয়েছিল—৫ ও ১০ আগস্ট দু’দিনে ২৬৪ জন করে প্রাণ হারান।
সতর্কতার অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আবারও সবাইকে মাস্ক পরা, ভিড় এড়িয়ে চলা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

--পার্বত্য সময়