চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আজ মঙ্গলবার (১৪ মে) আয়োজন করেছে তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সমাবর্তন। নয় বছর পর অনুষ্ঠিত এই পঞ্চম সমাবর্তনে অংশ নিচ্ছেন ২৩ হাজারের বেশি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী, যা বাংলাদেশের কোনো একক বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় সমাবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সমাবর্তনের মূল আকর্ষণ হিসেবে থাকছেন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ও চবির সাবেক শিক্ষক, বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তাঁকে সম্মানসূচক ‘ডক্টর অব লিটারেচার (ডি-লিট)’ ডিগ্রি প্রদান করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে তৈরি করা হয়েছে বিশাল প্যান্ডেল। সমাবর্তন উপলক্ষে সাজানো হয়েছে পুরো ক্যাম্পাস। রঙিন আলো আর বসন্তের ফুলে চবি পরিণত হয়েছে এক উৎসবমুখর প্রাঙ্গণে।
সমাবর্তন আয়োজনে বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রায় ১৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ফি থেকেই এসেছে ৬ কোটির বেশি টাকা। সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে শতাধিক বাসে ক্যাম্পাসে পৌঁছেছেন শিক্ষার্থীরা।
চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইয়াহইয়া আখতার বলেন, “এটা শুধু সমাবর্তন নয়, আমাদের গৌরবের এক মহামুহূর্ত। প্রাক্তন শিক্ষক ড. ইউনূসকে ডিলিট দেওয়া আমাদের জন্য সম্মানের।”
সমাবর্তনে অংশ নিচ্ছেন ২০১১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীরা। অনুষদভিত্তিক অংশগ্রহণে সবচেয়ে এগিয়ে কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ, এরপর রয়েছে ব্যবসায় প্রশাসন, সমাজবিজ্ঞান ও বিজ্ঞান অনুষদ।
অনুষ্ঠানে ৪২ জন পিএইচডি এবং ৩৩ জন এমফিল ডিগ্রিধারীকেও বিশেষভাবে সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন জানান, “সমাবর্তন নির্বিঘ্ন করতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
স্মরণীয় এই আয়োজনে অংশ নিতে কেউ এসেছেন মা-বাবার হাত ধরে, কেউ বা সন্তানকে নিয়ে। দীর্ঘ নয় বছর পর প্রিয় ক্যাম্পাসে ফিরে এসেছে হাজার হাজার প্রাক্তন শিক্ষার্থী। উৎসব, আনন্দ, স্মৃতি আর গর্ব মিলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ এক ঐতিহাসিক দিন।
-পার্বত্য সময়


