চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সাবেক প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনের বিরুদ্ধে ২৪ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় আরও তিনজনকে আসামি করা হয়েছে- এক ঠিকাদার ও দুই ব্যাংক কর্মকর্তা।
তারা হলেন- মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজের মালিক জাকির হোসেন, ইউসিবিএল ব্যাংকের সাবেক অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কর্মকর্তা সরওয়ার আলম এবং এনআরবি ব্যাংক কুমিল্লা শাখার সাবেক এভিপি ও শাখাপ্রধান মোহাম্মদ তোফায়েল।
দুদক সূত্রে জানা যায়, ১১ সেপ্টেম্বর আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন দুদকের প্রধান কার্যালয়ের পরিচালক ও তদন্ত কর্মকর্তা বেনজীর আহম্মদ। আগামী ২৮ অক্টোবর চট্টগ্রাম মহানগর স্পেশাল জজ আদালতে চার্জশিটের গ্রহণযোগ্যতা বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
দুদকের তদন্তে জানা গেছে, চসিকের ইমপ্রুভমেন্ট অব পোর্ট কানেকটিং রোড প্রকল্পে এই দুর্নীতির ঘটনা ঘটে। প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করছিল ‘মেসার্স রানা বিল্ডার্স’ এবং ‘মেসার্স রানা বিল্ডার্স-ছালেহ আহমদ (জেভি)’ নামের দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তারা ইউসিবিএল ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করে, যা ব্যাংকের নামে পরিশোধ করার কথা ছিল।
কিন্তু চসিকের তৎকালীন প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সাইফুদ্দিন ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশ করে ব্যাংকের পরিবর্তে সরাসরি তাদের নামে ১২টি চেকে মোট ১৮ কোটি ৯১ লাখ টাকা পরিশোধ করেন। এর মধ্যে ‘রানা বিল্ডার্স অ্যান্ড সালেহ আহমদ (জেভি)’ ১০ কোটি ৩২ লাখ টাকা এবং ‘রানা বিল্ডার্স’ ৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা পান।
দুদক বলছে, এই অনিয়মের মাধ্যমে সাইফুদ্দিন বিপুল আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেন। অন্যদিকে অর্থ পাওয়ার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো মাঝপথে কাজ বন্ধ করে দেয়, ফলে সরকারের আরও ৪ কোটি ২৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়।
তদন্তে আরও বেরিয়ে আসে, ঠিকাদারদের বিল থেকে কেটে নেওয়া ৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকার ভ্যাট ও আয়করও সরকারি কোষাগারে জমা দেননি সাইফুদ্দিন। এতে সরকার রাজস্ব হারায়।
চসিক সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সাল থেকেই সাইফুদ্দিনের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ২০২২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে করপোরেশন। পরের বছর ২০২৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।
তিন বছর পর দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ায় অবশেষে আদালতের মুখোমুখি হচ্ছেন এই সাবেক কর্মকর্তা।


