সারা দেশের মতো আজ বুধবার (২৬ জুন) চট্টগ্রামেও শুরু হয়েছে এই বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। বাংলা প্রথম পত্রের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই পরীক্ষা ঘিরে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের অধীনে অংশ নিচ্ছে ১ লাখ ২ হাজার ৯৭৫ জন শিক্ষার্থী।
এ বছর ৩০৭টি কলেজ থেকে পরীক্ষার্থীরা অংশ নিচ্ছে এবং পরীক্ষা হচ্ছে ১১৫টি কেন্দ্রে। তবে সবচেয়ে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে স্বাস্থ্যবিধি ও করোনাবিষয়ক সতর্কতা—যেখানে দেখা গেছে নির্দেশনার বাস্তবায়নে ঘাটতি।
করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা বিবেচনায় আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে বাড়তি সতর্কতা গ্রহণের নির্দেশ দেয়। মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয় পরীক্ষার্থীদের জন্য। একইসঙ্গে প্রতিটি কেন্দ্রে অতিরিক্ত মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে বুধবার সকালে চট্টগ্রামের বেশ কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ পরীক্ষার্থীই কেন্দ্রের বাইরে মাস্ক না পরে অপেক্ষা করছে। এমনকি অভিভাবকরাও মাস্ক পরার বিষয়ে অনীহা দেখিয়েছেন। পরীক্ষা শুরুর আগে কেন্দ্রে প্রবেশের সময় অনেককেই মাস্ক দেওয়া হয়েছে এবং স্যানিটাইজারও ব্যবহার করানো হয়েছে, তবে সচেতনতায় ঘাটতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড জানিয়েছে, এবারের পরীক্ষায় ছাত্র ৪৫ হাজার ৮০৪ জন এবং ছাত্রী ৫৬ হাজার ৯৮৪ জন অংশ নিচ্ছেন। বিভাগের হিসেবে, বিজ্ঞান বিভাগে ২২ হাজার ৬৮৬ জন, মানবিক বিভাগে ৪৬ হাজার ৭১৮ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ৩৩ হাজার ৫৭০ জন পরীক্ষার্থী রয়েছেন।
জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী: চট্টগ্রাম জেলায় ৭১,৫২৩ জন, কক্সবাজারে ১২,০০৫ জন, রাঙামাটিতে ৫,৫৫৪ জন, খাগড়াছড়িতে ৭,০৮২ জন এবং বান্দরবানে ৩,৮৭১ জন।
এর মধ্যে শুধু চট্টগ্রাম মহানগরেই পরীক্ষার্থী ৩৫,৫৮৪ জন।
সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা পরিচালনার জন্য বোর্ড ৩০টি সাধারণ ও ১০টি বিশেষ ভিজিল্যান্স টিম গঠন করেছে। চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইলিয়াছ উদ্দিন আহাম্মদ বলেন, “করোনা ও ডেঙ্গুর পরিস্থিতি মাথায় রেখে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে স্বাস্থ্যসুরক্ষার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “পরীক্ষার পরিবেশ সুষ্ঠু রাখার জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। পরীক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সহযোগিতা কামনা করছি।”
গত বছর চট্টগ্রাম বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৬ হাজার ৩৪ জন। এবারে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কিছুটা কমেছে।


