খাগড়াছড়ি সংসদীয় আসনের ২০৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৮৯টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে জেলা পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। এর মধ্যে ৬৮টি কেন্দ্রকে ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনে তালিকা পাঠানো হয়েছে। মাত্র ১৪টি কেন্দ্রকে সাধারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, দূরত্ব, যোগাযোগ ব্যবস্থা, ভোটারদের অবস্থান, প্রার্থীদের প্রভাব ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় কেন্দ্রগুলোকে তিন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় ১৬টি। এরপর রামগড়ে ১১টি, গুইমারায় ১০টি, মানিকছড়িতে ৯টি, মহালছড়িতে ৮টি, মাটিরাঙায় ৫টি, দীঘিনালায় ৪টি, পানছড়িতে ৩টি এবং লক্ষ্মীছড়িতে ২টি কেন্দ্র রয়েছে।

অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ৬৮টি কেন্দ্রে মোট ভোটার ১ লাখ ৪৯ হাজার ৬২৬ জন। পুরো খাগড়াছড়ি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৫৪ হাজার ১১৪ জন।

দূর্গমতার কারণে দীঘিনালার নাড়াইছড়ি এবং লক্ষ্মীছড়ির ফুত্যাছড়ি ও শুকনাছড়ি কেন্দ্রে ভোটের সামগ্রী ও জনবল হেলিকপ্টারে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় ভোটার ও জনপ্রতিনিধিরা জানান, পাহাড়ি এলাকায় বসতি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকায় ভোটকেন্দ্র দূরে হওয়ায় অনেক ভোটারকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। এতে বয়স্ক, অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী ভোটারদের অংশগ্রহণ ব্যাহত হয়। তারা কেন্দ্র সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানান।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সাবেক সভাপতি প্রফেসর বোধিস্বত্ত দেওয়ান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের ভৌগোলিক ও সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনা করে কেন্দ্র বিন্যাস না হওয়ায় ভোটার উপস্থিতি কমে যাচ্ছে।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এস এম শাহাদাত হোসেন জানান, পুলিশের বিশেষ শাখার সুপারিশের ভিত্তিতেই কেন্দ্রগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে এবং শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ সুপার সায়েম মির্জা সায়েম মাহমুদ বলেন, অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন, টহল জোরদার ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হবে।