বান্দরবানে লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালীর দুর্গম মুরুংঝিরি থেকে রাবার বাগানের ২৬ জন শ্রমিককে অপহরণ করেছে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। অপহরণকারী সন্ত্রাসীরা শ্রমিকদের জন্য মুক্তিপণও দাবি করেছে বলে রাবারবাগানের একজন মালিক জানিয়েছেন। এদিকে এ ঘটনার পেছনে জেএসএস সন্ত্রাসীরা আছে বলে দাবি করছে ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-ইউপিডিএফ (প্রসীত)।
রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের দুর্গম মুরুংঝিরি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
বাগানমালিকের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসীরা শ্রমিকদের অপহরণ করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহাদাৎ হোসেন। এর আগে গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে দুই দফায় ১০ জনের বেশি শ্রমিককে অপহরণ করা হয়েছিল।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, সকালে সন্ত্রাসীরা কয়েকটি রবারবাগানে হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা অস্ত্রের মুখে সেখানে কর্মরত ২৬ জন শ্রমিককে অপহরণ করে নিয়ে গেছে। প্রকাশ্যে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা শ্রমিকদের অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার পর মুরুংঝিরি আশপাশের গোয়ালমারমা, মংবিচর ও তীরেরডেবা এলাকার লোকজন আতঙ্কে রয়েছেন জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
রাবার বাগানের মালিকদের সঙ্গে কথা বলে অপহৃত ২০ জন শ্রমিকের নাম জানা গেছে। তারা হলেন-মো. ফারুক (২৬), আয়ুব আলী (২৬), মো. সিদ্দিক (৪০), আবদুল খালেক (২০), আবদুল মাজেদ (১৭), মনিরুল ইসলাম (৩০), জিয়াউর রহমান (৪৫), মো. মোবারক (২৫), মো. হারুন (৩০), রমিজ উদ্দিন (৩২), সৈয়দ নুর (২৮), মো. কায়ছার (৩৮), মনির হোসেন (৩৫), মো. ইমরান (১৭), মো. মঞ্জুরুল (৩০), আবছার আলী (২৫), খায়রুল আমিন (৩০), আবু বক্কর (২৮), আবদুর রাজ্জাক (৩৩) ও মো. মবিন (২৫)। বাকি ৬ জনের নাম জানা যায়নি।
মুরুংঝিরি এলাকার রাবারবাগানের মালিক মো. শাহাজাহান বলেন, আজ সকালে সন্ত্রাসীরা ৬টি বাগান থেকে ২৬ জনকে অপহরণ করেছে। এর মধ্যে তার বাগান থেকে ১২ জনকে নিয়ে গেছে সন্ত্রাসীরা।
শাহাজাহান আরও জানান, সন্ত্রাসীরা অপহরণের শিকার এক শ্রমিকের মুঠোফোন থেকে আজ বিকেলে তাকে ফোন করে। বাগানের প্রত্যেক শ্রমিকের জন্য ৫০ হাজার টাকা করে মোট ৬ লাখ টাকা মুক্তিপণ হিসেবে দাবি করা হয়।
জানতে চাইলে লামা থানার ওসি মো. শাহাদাৎ হোসেন জানিয়েছেন, কয়েকটি রবারবাগান থেকে ২৬ জন শ্রমিককে অপহরণের ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ও সেনাবাহিনী উদ্ধার অভিযানে নেমেছে। অপহরণকারীরা পাহাড়ি সন্ত্রাসী হতে পারে। ওই সন্ত্রাসীরা কিছুদিন আগেও সরই ইউনিয়নের বমুখালের আগা থেকে তামাকখেতের শ্রমিকদের অপহরণ করেছে। উদ্ধার অভিযানে যাওয়া দল ফিরলে বিস্তারিত জানা যাবে।
এদিকে প্রসীত খীসা সমর্থিত ইউপিডিএফ তাদের মুখপাত্রে এ ঘটনার জন্য সরাসরি জেএসএস'র নাম নিয়ে 'ঠ্যাঙাড়ে নব্যমুখোশ সন্ত্রাসীদের' দায়ী করেছে। উল্লেখ্য, 'ঠ্যাঙাড়ে নব্যমুখোশ সন্ত্রাসী' বলতে জেএসএস'র কর্মী সমর্থকদের সম্বোধন করে তারা। 
তবে জেএসএস'র পক্ষ থেকে এ নিয়ে কিছু জানানো হয়নি।

-পার্বত্য সময়