খাগড়াছড়িতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের তিন নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে জেলা সদরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও সদর থানা-পুলিশ যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে।
পুলিশ জানায়, অভিযানে নেতৃত্ব দেন খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কায় কিসলু এবং জেলা ডিবির ওসি মেজবাহ উদ্দিন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- জেলা যুবলীগের সদস্য বোরহান উদ্দিন চৌধুরী, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য হাবিবুর রহমান এবং পৌর যুবলীগের সদস্য মো. রুবেল।
বোরহান উদ্দিন চৌধুরীকে নারকেলবাগান এলাকার আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে থেকে, হাবিবুর রহমানকে পৌর শহরের শান্তিনগর এলাকা থেকে এবং মো. রুবেলকে সদর উপজেলার কুমিল্লা টিলা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
খাগড়াছড়ি সদর থানার ওসি মোহাম্মদ কায় কিসলু জানান, ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ–২’-এর অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচন বানচাল করার লক্ষ্যে নাশকতার প্রস্তুতির সময় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ‘ডেভিল হান্ট ফেজ–২’ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি সন্ত্রাস দমন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে সরকার ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ শুরু করে। ওই মাসেই যৌথ বাহিনীর অভিযানে ১১ হাজার ৩১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করার ঘটনার পর এই অভিযানের ‘ফেজ–২’ শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, জাতীয় নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে অবিলম্বে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ–২’ চালু করা হবে।


