দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদকেন্দ্রিক তিনটি নদী খননের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘রাঙামাটি পার্বত্য জেলার কর্ণফুলী এবং সংযুক্ত নদীসমূহের (কাচালং, রাইক্ষ্যিং ও শলক নদ) টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক প্রকল্পটি অনুমোদন পায়।
একনেক সভায় মোট ৪৬ হাজার ৪১৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ২২টি প্রকল্প অনুমোদিত হয়। অনুমোদিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে ষাটের দশকে কাপ্তাই হ্রদ সৃষ্টির পর প্রায় ছয় দশক পর হ্রদকেন্দ্রিক নদীপথে খনন কাজ হতে যাচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নদীনির্ভর এলাকার মানুষের নৌ–যোগাযোগ ও জীবনযাত্রার দুর্ভোগ কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় সভাপতিত্ব করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও একনেক চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সভায় পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, কৃষি ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে পাউবো রাঙামাটি। এর আওতায় কাপ্তাই হ্রদের অভ্যন্তরীণ কাচালং, রাইক্ষ্যিং ও শলক নদ খনন করা হবে। একই সঙ্গে নদীপাড়ে ভাঙনরোধ, রক্ষা বাঁধ নির্মাণ, খাল খননসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৮৭ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে ২০৩০ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, কাচালং নদীর ৪৬ দশমিক ৯ কিলোমিটার, রাইক্ষ্যিং নদীর ১০ দশমিক ৫ কিলোমিটার এবং শলক নদীর ৮ দশমিক ৫ কিলোমিটারসহ মোট ৬৫ কিলোমিটার নৌ–পথ খনন করা হবে। এছাড়া জেলার ১০টি উপজেলার ১০টি খালে ২৫ দশমিক ৫ কিলোমিটার নৌ–পথ উন্নয়ন এবং ৪০টি স্থানে ১৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পের আওতায় কাপ্তাই হ্রদের বর্তমান ইকোলজিক্যাল অবস্থা জানতে একটি জরিপও পরিচালনা করা হবে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড রাঙামাটি জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী তয়ন কুমার ত্রিপুরা জানান, কাপ্তাই হ্রদ সৃষ্টির পর থেকে এসব নদীপথে কোনো খনন হয়নি। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কাচালং, রাইক্ষ্যিং ও শলক নদীনির্ভর নৌ–পথে যাতায়াত সহজ হবে। কৃষিপণ্য পরিবহন ও বাজারজাতকরণসহ স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ–চলাচল যাত্রী পরিবহন সংস্থা রাঙামাটি জোনের চেয়ারম্যান ও জেলা লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি মঈনুদ্দিন সেলিম বলেন, কাপ্তাই হ্রদের নৌ–পথ খনন রাঙামাটিবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে বাঘাইছড়ি উপজেলায় যাত্রী পরিবহনে চরম ভোগান্তি দেখা দেয়। তিনটি নদী খননের প্রকল্প অনুমোদনের খবরে আমরা আশাবাদী এবং দ্রুত কাজ শুরুর প্রত্যাশা করছি।


