চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) পাঁচ অপহৃত শিক্ষার্থীর মধ্যে চারজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। বিভিন্ন নিরাপত্তা সূত্র ও স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক কৌশলগত অভিযানের ফলেই এই উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। অপহরণের প্রায় ছয় দিন পর, ২২ এপ্রিল সন্ধ্যায় কাউখালীর নাকশাছড়ি থেকে দিব্যি চাকমাকে তার পিতার কাছে হস্তান্তর করে অপহরণকারীরা।
১৬ এপ্রিল খাগড়াছড়ির সদর উপজেলার গিরিফুল এলাকা থেকে পাঁচ শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে সন্ত্রাসীরা। এরপর থেকেই পাহাড়জুড়ে নিরাপত্তা বাহিনী সমন্বিত অভিযান শুরু করে। ২১ এপ্রিল সেনাবাহিনী খাগড়াছড়ির ভাইবোনছড়ায় ইউপিডিএফ-এর একটি গোপন আস্তানায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করে এবং আস্তানাটি ধ্বংস করে দেয়। নিরাপত্তা বাহিনীর চাপের মুখে পড়ে সন্ত্রাসীরা অপহৃতদের ধাপে ধাপে ছেড়ে দিতে শুরু করে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
জানা যায়, গতকাল ২২ এপ্রিল কাউখালীর নাকশাছড়িতে ইউপিডিএফ দিব্যি চাকমাকে এনে রাখে। পরবর্তীতে সন্ধ্যা ৭টায় জীবতলি মইনে এলাকায় ইউপিডিএফ নেতা উদয় চাকমার মাধ্যমে শিক্ষার্থী দিব্যি চাকমাকে তার পিতা ধনঞ্জয় চাকমার কাছে হস্তান্তর করা হয়। নিরাপত্তার কারণে তারা দ্রুত নিজ বাড়ির দিকে রওনা হন। অন্য ৩ শিক্ষার্থীর অবস্থান ও যোগাযোগের তথ্য নিরাপত্তার স্বার্থে গোপন রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে তাদের মুক্তির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। 
যদিও চারজনকে মুক্ত করা হয়েছে, এখনও নিখোঁজ রয়েছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী রিশন চাকমা। তার সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। 
তবে, স্থানীয়দের মাঝে সেনাবাহিনীর সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা চলছে। এই ঘটনাপ্রবাহ পাহাড়ে চলমান সশস্ত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর সক্রিয় ভূমিকা ও প্রতিশ্রুতি নতুন করে সামনে এনেছে। একইসঙ্গে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যাপারেও সরকার ও প্রশাসনের ভাবনার প্রয়োজনীয়তা আরও একবার তুলে ধরেছে।

সূত্র: দ্য হিল নিউজ বিডি