চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো ও সাদ্রী- এই পাঁচ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষায় প্রাথমিক স্তরের বই সরবরাহ কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৭ সালে। তবে শিক্ষক সংকটের কারণে উদ্যোগটি কার্যত ব্যর্থ হয়ে পড়ে। এবার শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক শিক্ষা সহজ করতে এসব বইয়ে যুক্ত করা হচ্ছে বাংলা অনুবাদ ও উচ্চারণ নির্দেশিকা।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের নিজস্ব ভাষায় পাঠদানের জন্য বই ছাপানো হলেও বিদ্যালয়ে সংশ্লিষ্ট ভাষা জানা শিক্ষক নেই বললেই চলে। অনেক শিক্ষক নিজ ভাষা বলতে জানলেও বর্ণ চিনতে পারেন না। আবার একেক বিদ্যালয়ে ভিন্ন ভিন্ন ভাষার শিক্ষার্থী থাকলেও শিক্ষক থাকেন হয়তো একটি ভাষার। ফলে পাঠদানে বইগুলো ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না।

ছবি: সংগৃহীত


চট্টগ্রাম বিভাগীয় শিক্ষা অফিস জানায়, অধিকাংশ শিক্ষক শোনা-বলার দক্ষতা রাখলেও পড়া-লেখায় পারদর্শী নন। মতবিনিময় সভায় প্রস্তাব আসে- যদি বইয়ে বাংলা অনুবাদ যুক্ত করা যায় তবে প্রশিক্ষণ ছাড়াই শিক্ষকরা পাঠদান করতে পারবেন।
খাগড়াছড়ির প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, “শুধু বই ছাপালে উদ্যোগ সফল হয় না। শিক্ষক নিয়োগ ও বাস্তবায়নের জন্য নতুন পরিকল্পনা নিতে হবে।”
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাঙামাটি জেলায় চলতি বছর প্রাক-প্রাথমিক থেকে তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ৩০ হাজার ৫৩৪ শিক্ষার্থীকে ৬৯ হাজারের বেশি বই বিতরণ করা হয়েছে। তবে শিক্ষক সংকটের কারণে পাঠদান সম্ভব হয়নি। একই পরিস্থিতি খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানেও বিদ্যমান। অধিকাংশ শিক্ষার্থী তাই বাংলা বই দিয়েই পড়াশোনা করছে।
বাধা দূর করতে সরকার বইগুলোতে বাংলায় বর্ণ, শব্দ, উচ্চারণ ও অনুবাদ যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছর থেকেই নতুন সংস্করণের বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছাবে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগের উপপরিচালক মো. আতাউর রহমান বলেন, “ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বইয়ে অনুবাদ যুক্ত করলে শিক্ষকরা সহজেই পাঠদান করতে পারবেন। এতে শিক্ষার্থীরাও উপকৃত হবে।”
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান জানান, চাকমা ও মারমা ভাষায় সবচেয়ে বেশি সংকট। চাকমা ভাষা কিছুটা চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষার সঙ্গে মিলে গেলেও মারমা ভাষা পাঠ ও লেখায় জটিল।
তিনি বলেন, “নিজ ভাষায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে আমরা নতুন উদ্যোগ নিয়েছি। পাঁচ ভাষার সব পাঠ্যবই বাংলায় অনুবাদ রেখে পরিমার্জিত আকারে প্রকাশ করা হবে। এতে শিক্ষার্থী যেমন উপকৃত হবে, তেমনি যেকোনো শিক্ষক প্রশিক্ষণ নিয়ে পাঠদান করতে পারবেন। আগামী বছরের মধ্যে উদ্যোগটি বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।”

-পার্বত্য সময়