পার্বত্য চট্টগ্রামে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট- ইউপিডিএফ (প্রসীত) -এর কমপক্ষে ছয়টি প্রশিক্ষণ ক্যাম্প ভারতের ত্রিপুরা ও সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোতে রয়েছে বলে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এসব ক্যাম্পে অস্ত্র প্রশিক্ষণ নেওয়া ছাড়াও নেতাকর্মীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও স্থায়ী বসবাসের ব্যবস্থা রয়েছে।
সূত্র জানায়, বাংলাদেশে খুন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অগ্নিসংযোগের পর ইউপিডিএফ সদস্যরা অবাধে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে ঢুকে পড়ে এবং বিএসএফ তাদের সহযোগিতা দেয়।
প্রতিবছর তিন পার্বত্য জেলা থেকে আড়াইশ থেকে তিনশ কোটি টাকার চাঁদা আদায় করছে ইউপিডিএফ। এর বড় অংশ ব্যয় হচ্ছে অস্ত্র কেনায়। সীমান্ত পথে ভারত ও মিয়ানমারের আরাকান আর্মির সহায়তায় ভারী আগ্নেয়াস্ত্র প্রবেশ করছে।
সম্প্রতি মিজোরামে ভারতীয় বাহিনীর অভিযানে ৬টি একে-৪৭ রাইফেল ও ১০ হাজার গুলি আটক করা হয়, যা বাংলাদেশে পাচারের পথে ছিল বলে ভারতীয় গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে।
নিরাপত্তা সূত্রে পাওয়া তথ্যমতে ইউপিডিএফের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পগুলো অবস্থিত— ত্রিপুরার ধলাই জেলার রতননগর, টুইচামা, নারায়ণপুর ও পঞ্চ রতন, ধলাই জেলার নারিকেল বাগান, পূর্ব সাবরুম সীমান্ত এলাকা
প্রধানত ইউপিডিএফ (প্রসীত) গোষ্ঠীর চার শতাধিক সশস্ত্র ক্যাডার এসব ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে।
খাগড়াছড়িতে এক মারমা কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ইউপিডিএফ গত সপ্তাহে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে। অবরোধ কর্মসূচির সময় তাদের নির্বিচার গুলিতে তিন উপজাতি নিহত এবং সেনা কর্মকর্তাসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। বাজার, বসতবাড়ি ও দোকানে অগ্নিসংযোগ চালানো হয়।
তবে মেডিক্যাল পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি বলে সিভিল সার্জন জানিয়েছেন। স্থানীয় মারমা সম্প্রদায়সহ অন্যান্য সংগঠন অপরাধীদের বিচারের দাবি তুললেও দাঙ্গা বা সহিংসতার পক্ষে যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, ইউপিডিএফ এ ঘটনাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করেছে।
বাংলাদেশ সীমান্ত সম্মেলনে একাধিকবার ভারতের মাটিতে ইউপিডিএফের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের বিষয়টি উত্থাপন করা হলেও ভারত গুরুত্ব দেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে নতজানু কূটনীতি ও ভারত-তোষণ নীতির কারণে বিষয়টি আমলে নেওয়া হয়নি।
খাগড়াছড়ির সাধারণ বাসিন্দারা বলছেন, ইউপিডিএফ পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, অথচ অধিকাংশ উপজাতির সাধারণ মানুষ এসব নৈরাজ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। তারা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযানের দাবি তুলেছেন।
সূত্র: ইনকিলাব


