বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের লুলাইং থেকে পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের হাতে অপহৃত ৮ শ্রমিককে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ পরিশোধের মাধ্যমে মুক্ত করতে হয়েছে বলে দাবি স্থানীয় সূত্রের।
বুধবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে যৌথবাহিনীর অভিযানে এসব শ্রমিককে উদ্ধার করা হলেও মূল ঘটনা ঘিরে চলছে নানা গুঞ্জন ও আতঙ্ক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (৭ এপ্রিল) দিবাগত রাতে সরই ইউনিয়নের লেমুপালং এলাকার একটি তামাক খামার এবং শ্রমিক আল আমিন ও ভুট্টোর মালিকানাধীন একটি খামারবাড়ি থেকে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ৮ জন শ্রমিককে জিম্মি করে নিয়ে যায়।
যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্ধারের কথা বলা হলেও এলাকাবাসীর অভিযোগ, মুক্তিপণ দিয়েই ছাড়া পেয়েছেন শ্রমিকরা। স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়েই শ্রমিকদের উদ্ধার করতে পারত, তাহলে বিপুল অঙ্কের মুক্তিপণ কেন দিতে হলো?
লামা থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন জানিয়েছেন, "যৌথবাহিনীর অভিযানে শ্রমিকদের উদ্ধার করা হয়েছে এবং অপহরণকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।" তবে তিনি উদ্ধারকৃত শ্রমিকদের নাম প্রকাশ করতে অপারগতা জানান।
পাহাড়ে অপহরণ যেন নিয়মিত ঘটনা
এই ঘটনায় পাহাড়ে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির যে ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠছে, তা নতুন নয়। ১৪ জানুয়ারি ও ১ ফেব্রুয়ারি, লামার সরই ইউনিয়নে দুই দফায় মোট ১৪ জন শ্রমিক অপহৃত হন। ১৬ ফেব্রুয়ারি, ফাসিয়াখালী ইউনিয়নের একটি রাবার বাগান থেকে আরও ২৬ জন শ্রমিক অপহরণের শিকার হন।
প্রত্যেকবারই একই কায়দায় মুক্তিপণের বিনিময়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, অথচ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
পাহাড়ে ঘন ঘন এই অপহরণ ও মুক্তিপণ বাণিজ্য সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। শ্রমজীবী সাধারণ মানুষের জীবন এখন সন্ত্রাসীদের দয়ার ওপর নির্ভরশীল।
স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসনের নির্লিপ্ততা ও দুর্বলতা না থাকলে এতবার এভাবে অপহরণ করা সম্ভব হতো না। বারবার ঘটনার পুনরাবৃত্তি প্রমাণ করে, পাহাড়ে এখনো সন্ত্রাসীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে।
সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি দাবি উঠেছে, অবিলম্বে পাহাড়ে সক্রিয় সন্ত্রাসী চক্রগুলোকে চিহ্নিত করে দমন এবং পাহাড়ের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
-পার্বত্য সময়


