সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের উদ্যোগে  রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ হলরুমে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম হেডম্যান নেটওয়ার্ক সম্মেলন-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত রুদ্ধদ্বার পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে প্রচলিত ভূমি ব্যবস্থাপনায় প্রথাগত নেতৃত্বের ভূমিকা ও করণীয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি এবং এর বর্তমান অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট ভবতোষ দেওয়ানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে তিন পার্বত্য জেলার হেডম্যান ও কার্বারীরা অংশগ্রহণ করেন।

সম্মেলনে বক্তারা স্থায়ী বাসিন্দাদের ভূমির মালিকানা নিশ্চিত করতে ভূমি বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ভূমি কমিশনকে কার্যকর করার দাবি জানান। পাশাপাশি প্রথাগত শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হেডম্যান-কার্বারীদের ক্ষমতা, মর্যাদা ও ভাতা বৃদ্ধি, আঞ্চলিক পরিষদের অধীনে স্থানীয় প্রশাসন সংক্রান্ত ক্ষমতা হস্তান্তর এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবি উত্থাপন করা হয়। এছাড়া প্রথাগত নেতৃত্বে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে নারী কার্বারীদের জন্য ভাতা প্রদানের দাবিও জানানো হয়।

সম্মেলনে উপস্থিত চাকমা সার্কেল চীফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় মৌজা, সামাজিক বন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতে সকল জাতিগোষ্ঠী ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতে কাজ করার আহ্বান জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) বলেন, ‘১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি হয়েছিল, কিন্তু সেই চুক্তি আজও পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয়নি।  চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে বিএনপি আন্তরিক ছিল না এবং আওয়ামী লীগ চুক্তি করেও তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়নি। এই বাস্তবতার মধ্যেও হেডম্যান-কার্বারীরা তাদের প্রথাগত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন, যা অত্যন্ত কঠিন কাজ।

তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ, তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ এবং প্রথাগত নেতৃত্ব—এই চারটি স্তম্ভ নিয়েই পার্বত্য অঞ্চলের বিশেষ প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে ওঠার কথা ছিল।

সন্তু লারমা বলেন, ‘চুক্তি বাস্তবায়িত হলে প্রথাগত নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন অনেক সহজ হতো এবং তা জনজীবন ও জীবিকার সঙ্গে আরও গভীরভাবে সম্পৃক্ত হতে পারত। কিন্তু চুক্তিকে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আজ আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্ন সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। আমরা আমাদের জাতিগত পরিচয় ও অধিকার কতটা রক্ষা করতে পারব, সেটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। হেডম্যান-কার্বারীরা চুক্তি বাস্তবায়িত না হওয়ার কারণে তাদের প্রথাগত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।’

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, ‘বর্তমান বাস্তবতায় পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথাগত শাসনব্যবস্থাকে কার্যকর ও শক্তিশালী করতে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।’

উল্লেখ্য, প্রতিবছর সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের আয়োজনে উল্লেখিত সম্মেলন পালন করা হয়। সম্মেলনে পার্বত্য অঞ্চলের হেডম্যান কার্বারীদের প্রথাগত নেতৃত্বের ভূমিকা, করণীয়, প্রতিবন্ধকতা ও কার্যাবলী এবং পার্বত্য চট্রগ্রাম চুক্তিসহ সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়ে থাকে।