কক্সবাজারে ক্রমবর্ধমান রোহিঙ্গা আগমনের ফলে সংক্রমণজনিত রোগের ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলেছে। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা মাঠপর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছে।

ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ) জানিয়েছে, ২০২৫ সালে তারা ‘টেস্ট অ্যান্ড ট্রিট’ নামে একটি বিশেষ কর্মসূচি চালু করেছে। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য রোহিঙ্গাদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া হেপাটাইটিস সি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা। 

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, হেপাটাইটিস সি-তে আক্রান্ত ২ হাজার ১৩৬ জনের মধ্যে ইতোমধ্যে ২ হাজার ১০২ জনের চিকিৎসা সম্পন্ন করা হয়েছে।

অন্যদিকে  ইউএনএইচসিআর বলছে, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য আবহাওয়াজনিত দুর্যোগও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতি বছর মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চলা বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টি ও ঝড় শরণার্থী শিবিরগুলোকে ঝুঁকির মুখে ফেলে। বিশেষ করে অস্থায়ী তাঁবুতে বসবাসকারী পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এই সংকট মোকাবিলায় ইউএনএইচসিআর ‘মনসুন রেসপন্স’ কর্মসূচির আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে। বর্ষা মৌসুমের আগেই প্রায় ৪০ হাজার পরিবারের মধ্যে টাই-ডাউন কিট বিতরণ করা হচ্ছে, যাতে তারা নিজেদের আশ্রয়স্থল আরও শক্তিশালী ও নিরাপদ করতে পারে।

বিদেশি সহায়তা কমলেও থেমে নেই মানবিক কার্যক্রম

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বৈদেশিক সহায়তা কমে যাওয়ায় রোহিঙ্গাদের সহায়তামূলক কার্যক্রম পরিচালনা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। তবুও আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলো এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ব্যক্তিগত দাতাদের সহযোগিতায় সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সবচেয়ে ইতিবাচক বিষয় হলো—রোহিঙ্গাদের কণ্ঠ এখন আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে পৌঁছেছে। ফলে বিশ্ব সম্প্রদায় আর তাদের দুর্ভোগ উপেক্ষা করার সুযোগ পাচ্ছে না।