পার্বত্য চট্টগ্রামে ভারতীয় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের ৮০তম বার্ষিকী উপলক্ষে ‘পার্বত্য অঞ্চলে ভারতীয় পতাকা উত্তোলনের ৮০তম বছর’ শীর্ষক একটি ভার্চুয়াল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। গত শনিবার (১৫ আগস্ট) দিল্লিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম চাকমা রিপোর্টার-এর উদ্যোগে এ আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক গৌতম চাকমা, হিউম্যানিটি প্রোটেকশন ফোরামের সভাপতি; রসিক মোহন চাকমা, বিধায়ক ও চাকমা স্বায়ত্তশাসিত জেলা পরিষদের (সিএডিসি) সদস্য; অরুণাচল প্রদেশের চাকমা-হাজং এল্ডার্স ফোরামের প্রীতিময় চাকমা; এবং ইউপিডিএফ (প্রসীত)-এর সদস্য সুহাস চাকমা।

সুহাস চাকমা তার বক্তব্যে বলেন, ‘বাংলাদেশে যারা আছে তারা সরকারের চাপে/ভয়ে ইচ্ছা করলেও আলোচনা করতে পারেনা। অন্যদিকে, আমরা যারা ভারতে আছি তারাও চাইলে বিস্তারিত আলোচনা করতে পারিনা।’

তিনি বলেন, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে পার্বত্য অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা তৈরি হওয়ার মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি পরিবর্তনের সুযোগ এলেও পার্বত্য জনগণ ও সন্তু লারমা সেই সুযোগ মিস করেছেন। তার বক্তব্যে ১৯৭১ সালের ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গেও এর তুলনা করা হয়।

অধ্যাপক গৌতম চাকমা ১৯৪৭ সালের দেশভাগের সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম ভারতের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কথা ছিল—এমন একটি ঐতিহাসিক দাবির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অংশ হওয়ার ঘটনাকে ‘ঐতিহাসিক ভুল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

তিনি আরও মন্তব্য করেন, ১৯৪৭ সাল থেকেই পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগোষ্ঠী বাংলাদেশে বসবাস করলেও অত্রাঞ্চলের জনগণ কখনোই নিজেদেরকে বাংলাদেশি হিসেবে মেনে নেয়নি।

প্রীতিময় চাকমা বলেন, সন্তু লারমার উচিত ছিল শেখ হাসিনার সঙ্গে সম্পাদিত পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন করে নেওয়া এবং শেখ হাসিনার পক্ষে পার্বত্যবাসীকে জাগ্রত করা।

একইসঙ্গে তিনি শেখ হাসিনাকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে পার্বত্য চট্টগ্রামে নেওয়ার প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, প্রস্তাবে রাজি না হলে পার্বত্য চট্টগ্রামকে বাংলাদেশ থেকে আলাদা করাকে তিনি যৌক্তিক মনে করেন।

রসিক মোহন চাকমা জেএসএস (সন্তু) ও ইউপিডিএফ (প্রসীত)-এর মধ্যকার আন্তঃকোন্দল নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি মন্তব্য করেন, নিজেদের মধ্যকার আন্তঃকোন্দলের ফলে পার্বত্যবাসী স্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম গঠনের দাবি থেকে সরে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, জাতিগত পরিচয় বা ‘জুম্ম ন্যাশনালিজম’ না হলে পৃথিবীতে বাঁচার কোনো উপায় নেই।