পার্বত্য অঞ্চলে সক্রিয় সশস্ত্র সংগঠনগুলোর তৎপরতা বৃদ্ধি ও অবৈধ অস্ত্রের চোরাচালান নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে যমুনা টেলিভিশন। যমুনা টিভির অনুসন্ধান অনুযায়ী, মিয়ানমারের মিয়ানমার ভিত্তিক বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (আরএ) কাছ থেকে পাহাড়ি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ব্যাপকভাবে অস্ত্র সংগ্রহ করছে।
নতুন ৩টি চোরাচালান করিডর
যমুনা টেলিভিশনের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- অনুসন্ধানে দেখা গেছে, পাহাড়ে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখতে এবং অস্ত্র চোরাচালানের জন্য সশস্ত্র সংগঠনগুলো নতুন তিনটি করিডর বেছে নিয়েছে:
করিডর-১: বান্দরবানের মদক হয়ে রেমাগ্রি, থানচি ও বলিপাড়া।
করিডর-২: মিয়ানমার সীমান্ত থেকে নাইক্ষ্যংছড়ি, আলীকদম, থানচি হয়ে বলিপাড়া।
করিডর-৩: ভারতের মিজোরামের চংতে থেকে থেগামুখ, সাজেক ও বাঘাইছড়ি হয়ে খাগড়াছড়ি।
আরাকান আর্মির কাছ থেকে অস্ত্র ক্রয়
যমুনা টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, পার্বত্যাঞ্চলের প্রধান তিন সক্রিয় সশস্ত্র গ্রুপ- পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস), ইউনাইটেড পিপলস্ ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) এবং কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) বর্তমানে আরাকান আর্মির কাছ থেকে অস্ত্র কিনছে। সম্প্রতি তারা আরাকান আর্মির কাছ থেকে প্রায় ২৫টি মেশিনগানসহ ভারী অস্ত্র সংগ্রহ করেছে বলে সূত্রে জানা গেছে।
সদস্য সংখ্যা ও বর্তমান পরিস্থিতি
প্রতিবেদন অনুযায়ী-প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই তিনটি গোষ্ঠীর মোট সদস্য সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার (জেএসএস: ৬-৭ হাজার, ইউপিডিএফ: ৩-৪ হাজার, কেএনএফ: ২৫০-৩০০ জন)। পূর্বে প্রতি ১০-১২ জনে একটি সক্রিয় অস্ত্র থাকলেও, বর্তমানে প্রতি ৫-৬ জন সদস্যের হাতে অন্তত একটি করে সক্রিয় অস্ত্র রয়েছে।
সেনাবাহিনীর অভিযানের মুখে এসব সংগঠন তাদের পুরনো ঘাঁটিগুলো ছেড়ে সীমান্ত এলাকায় গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের পরিবর্তন ও পুনর্বিন্যাসের সময়টিকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে নিজেদের সুসংগঠিত করতে চাইছে এই পাহাড়ি সশস্ত্র গ্রুপগুলো।
সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বারবার আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হলেও গোষ্ঠীগুলো উল্টো নতুন শান্তি চুক্তি ও পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের দাবি তুলছে, যা পুরো পার্বত্য এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক ও অস্থিরতা তৈরি করেছে।


