রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ৩নং চিৎমরম বৌদ্ধ বিহারে ধর্মীয় প্রার্থনার সময় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন পাহাড়ের সুপরিচিত এক্টিভিস্ট পাইশিখই মারমা। এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটি।
বুধবার (৬ আগস্ট) দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে পিসিসিপির কেন্দ্রীয় সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন কায়েস ও সাধারণ সম্পাদক হাবীব আজম এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) বিকাল ৫টার দিকে পাইশিখই মারমা চট্টগ্রাম থেকে তার স্ত্রীকে নিয়ে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে চিৎমরম বৌদ্ধ বিহারে যান। এ সময় স্থানীয়ভাবে পরিচিত সন্ত্রাসী সংগঠন জেএসএস (সন্তু) গ্রুপের সদস্যরা তাকে অপহরণ করার চেষ্টা চালায়। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতায় অপহরণ ব্যর্থ হলে সন্ত্রাসীরা তার মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করে। প্রচুর রক্তক্ষরণের পর তাকে ঘটনাস্থলে ফেলে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা।
পরে বিজিবি সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। কিছুটা সুস্থ হলে তাকে নিরাপত্তার সঙ্গে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। আহত পাইশিখই মারমা খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার সাথোয়াইউ মারমার ছেলে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পাইশিখই মারমা ফেসবুক ও ইউটিউবে পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকায় তিনি দীর্ঘদিন ধরেই সন্ত্রাসীদের হুমকির মুখে ছিলেন। হামলাকারীদের মধ্যে অন্যতম ছিল পাইপ্রু মারমা খ্যইপাইং, যিনি জেএসএস (সন্তু) গ্রুপের চিৎমরম অঞ্চলের কমান্ডার হিসেবে পরিচিত। তার বাড়ি রাজস্থলী উপজেলার তংবোশে পাড়ায়।
পিসিসিপি নেতারা অভিযোগ করে বলেন, এই হামলার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে, যারা পাহাড়ে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মুখ খোলে, তাদের চুপ করাতে সন্ত্রাসীরা বর্বর হামলা চালাতে দ্বিধা করে না। পাহাড়ে সাধারণ মানুষের বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার আজ চরমভাবে লঙ্ঘিত।
এ ঘটনায় সুশীল সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর নিরব ভূমিকারও সমালোচনা করেন পিসিসিপির নেতারা। তারা পাহাড়ে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের আহ্বান জানান এবং শান্তিকামী নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
-পার্বত্য সময়


