পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর চাঁদাবাজি ও অবৈধ কর্মকাণ্ড দিন দিন নতুন মাত্রা নিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান মাহমুদ। তিনি বলেন, স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছ থেকে আদায়কৃত চাঁদার টাকায় ভারত, মিয়ানমার ও আরাকান অঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলোর কাছ থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহ করছে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো। এসব অস্ত্র পরে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হচ্ছে।

মঙ্গলবার সকালে খাগড়াছড়ি ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ মিলনায়তনে ব্যবসায়ী ও ঠিকাদারদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি। সভায় জেলার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, ঠিকাদার এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রিজিয়ন কমান্ডার আরও বলেন, সন্ত্রাসীরা শুধু ব্যবসায়ী নয়- শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকেও নিয়মিত চাঁদা আদায় করছে। এ অবৈধ অর্থ পাহাড়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে এবং উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত করছে।

তিনি জানান, সেনাবাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফ (ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট)-এর সশস্ত্র সদস্যরা এখন আর আগের মতো সক্রিয় থাকতে পারছে না। পানছড়ির লৌংগা যুবনেশ্বর পাড়ায় ইউপিডিএফ-এর সবচেয়ে বড় ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়েছে। সশস্ত্র সদস্যরা পালিয়ে যাচ্ছে অথবা সিভিল পোশাকে গা ঢাকা দিচ্ছে।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান মাহমুদ ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, আজ থেকেই চাঁদা দেওয়া বন্ধ করুন। কেউ চাপ দিলে বলবেন- সেনাবাহিনী নিষেধ করেছে। সব দায় সেনাবাহিনীর ওপর দিন, তবুও চাঁদা দেবেন না। আমরা আপনাদের ব্যবসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করব।

তিনি আরও বলেন, আপনাদের দেওয়া চাঁদার টাকাই শেষ পর্যন্ত আপনাদের ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই চাঁদাবাজির কারণে পাহাড়ের ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সভায় উপস্থিত বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ব্যবসায়ী ও ঠিকাদাররা সেনাবাহিনীর অবস্থানকে স্বাগত জানান এবং চাঁদাবাজি প্রতিরোধে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।