বান্দরবানের দুর্গম পার্বত্য এলাকায় সন্ত্রাসীদের হামলা ও অন্যান্য ঘটনায় অভিভাবক হারানো ছয় এতিম শিশুর শিক্ষার পূর্ণ দায়িত্ব নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
বুধবার (৫ নভেম্বর) সকালে বান্দরবান সেনানিবাসে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে এসব শিশুর অভিভাবকদের হাতে এক বছরের শিক্ষা-ব্যয়, শিক্ষাসামগ্রী এবং নগদ সহায়তা তুলে দেন বান্দরবান রিজিয়নের জিএসও-২ মেজর পারভেজ রহমান। এ সময় দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের হাতে সেলাই মেশিন, ঢেউটিন এবং আর্থিক অনুদানও প্রদান করা হয়।
সূত্র জানায়, তিন পার্বত্য জেলার বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রমের কারণে বাবা-মাকে হারানো এসব শিশুরা মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়েছিল। তাদের মধ্যে রোয়াংছড়ি উপজেলার পাইক্ষ্যং পাড়ার চার বছর বয়সী ক্রীস্টিনা বমের শিক্ষাজীবন প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। ২০২৩ সালে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন তার বাবা লাললক লিয়ান বম।
একইভাবে রুমা উপজেলার রনিন পাড়ার লালরাউ সাং-এর বাবা পাঁচ বছর আগে মারা যান এবং পরে মা পুনর্বিবাহ করলে শিশুটি সম্পূর্ণ অবলম্বনহীন হয়ে পড়ে। সেনাবাহিনী এসব শিশুদের বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ ও প্রয়োজনীয় উপকরণ দিয়েছে।
মেজর পারভেজ রহমান বলেন, এসব অসহায় শিশুরা যেন নির্বিঘ্নে শিক্ষাজীবন চালিয়ে যেতে পারে, সে লক্ষ্যেই আমরা প্রাথমিকভাবে এক বছরের ব্যয় দিয়েছি। ভবিষ্যতেও এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে। শুধু এতিম শিশুই নয়- দুর্গম এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় জনগোষ্ঠীর পাশে থেকেছে, ভবিষ্যতেও থাকবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
এর আগে বান্দরবান রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাকিব ইবনে রেজোয়ান সাম্প্রতিক এক পরিদর্শনে এসব শিশুদের সম্পর্কে অবহিত হন এবং তাদের দায়িত্ব নেন।


