জাতিসংঘের আদিবাসী ইস্যু-বিষয়ক স্থায়ী ফোরামে (UNPFII) বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে পার্বত্য চট্টগ্রামে 'আদিবাসী' নারীদের অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) প্রতিনিধি এবং সংগঠনটির সভাপতি সন্তু লারমার নাতনি অগাস্টিনা চাকমা। একইসঙ্গে তিনি সেনা ক্যাম্প ও বাঙালি বসতি প্রত্যাহারসহ পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।
নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদফতরে ২২ এপ্রিল শুরু হওয়া ইউএনপিএফআইআই-এর ২৪তম অধিবেশনে “আদিবাসী নারীর অধিকার-বিষয়ক বৈশ্বিক সংলাপ” অধিবেশনে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, “চুক্তি বাস্তবায়নের ব্যর্থতা জুম্ম নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে না। সেনা ক্যাম্প ও ভূমি বিরোধের সমাধান ছাড়া নারীর ক্ষমতায়ণ সম্ভব নয়।”
তিনি আরও দাবি করেন, ২০২৪ সালেই ১২টি যৌন সহিংসতার ঘটনার মধ্যে ১৬ জন জুম্ম নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। অভিযুক্তদের অনেকেই জামিনে মুক্তি পেলেও, এখন পর্যন্ত কাউকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হয়নি।
অগাস্টিনার অভিযোগ, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং রাষ্ট্রীয় নিষ্ক্রিয়তা পার্বত্য চট্টগ্রামে জুম্ম নারীদের জন্য একটি স্থায়ী ঝুঁকির ক্ষেত্র তৈরি করেছে। তার দাবি, “জাতিসংঘের স্থায়ী ফোরামকে অবশ্যই ১৯৯৭ সালের চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে চাপ প্রয়োগ করতে হবে এবং আদিবাসী নারীদের সুরক্ষায় বিশেষ আইন প্রণয়নের সুপারিশ করতে হবে।”
এই অধিবেশনে অগাস্টিনা ছাড়াও অংশ নিয়েছেন পিসিজেএসএস প্রতিনিধি চঞ্চনা চাকমা ও মনোজিত চাকমা। এছাড়া বাংলাদেশের পক্ষে ছয় সদস্যের সরকারি প্রতিনিধি দলও উপস্থিত রয়েছে।
এদিকে, পিসিজেএসএস ও সহযোগী সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে সেনা ক্যাম্প, বাঙালি বসতি ও ভূমি জবরদখলের অভিযোগ করে আসছে। তবে সরকারি মহল থেকে দাবি করা হয়, চুক্তির ৭০ ভাগের বেশি বাস্তবায়িত হয়েছে এবং সেনা বাহিনী এলাকাটিতে সন্ত্রাস মোকাবেলায় দায়িত্ব পালন করছে।
অগাস্টিনার বক্তব্যের পর তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও উত্তেজনা ছড়াতে পারে।
-পার্বত্য সময়


