বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে আবারও স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য মুহাম্মদ নুরুন্নবী (৪৮) গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকাল পাঁচটার দিকে সদর ইউনিয়নের নিকুনছড়ি বিওপির আওতাধীন হামিদিয়া পাড়ার সংলগ্ন ৪২ নম্বর সীমান্ত পিলারের কাছে মিয়ানমারের ভেতরে এই বিস্ফোরণ ঘটে।
মাইন বিস্ফোরণের বিস্তারিত
আহত নুরুন্নবী নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং মৃত শফিকুর রহমানের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলের দিকে তিনি হামিদিয়া পাড়ার সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় পাখি শিকার করতে যান। তবে অসতর্কতাবশত মিয়ানমারের ভেতরে প্রবেশ করলে সেখানে পুঁতে রাখা স্থলমাইনে পা পড়লে সেটি বিস্ফোরিত হয়। এতে তার বাম পায়ের হাঁটুর নিচের অংশ উড়ে যায়।
স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজারের উখিয়ায় অবস্থিত মেডিকেল সান্স ফ্রন্টিয়ার (এমএসএফ) হাসপাতালে নিয়ে যান।
প্রশাসনের বক্তব্য
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “৪২ নম্বর সীমান্ত পিলার এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে একজন বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। তাকে চিকিৎসার জন্য উখিয়া এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।”
সীমান্ত এলাকায় মাইন বিস্ফোরণের ক্রমবর্ধমান ঘটনা
উল্লেখ্য, এর আগে ৩ ফেব্রুয়ারি নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ফুলতলী সীমান্তে ৪৮ নম্বর পিলার এলাকায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে তরিক উদ্দিন (১৮) নামে এক যুবকের বাঁ-পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
সীমান্ত এলাকায় বারবার মাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে চলমান সংঘর্ষের কারণে সীমান্তে মাইন পুঁতে রাখা হচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
উচ্চ পর্যায়ের উদ্যোগ প্রয়োজন
স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় আরও স্থলমাইন পুঁতে রাখা হতে পারে, যা ভবিষ্যতে প্রাণহানির কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা করে মিয়ানমারের কাছে কঠোর প্রতিবাদ জানানো উচিত। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত জনগণকে আরও সচেতন করার প্রয়োজনীয়তাও বিশেষজ্ঞরা তুলে ধরছেন।
-পার্বত্য সময়


