বান্দরবানে চাঁদাবাজি ও সাধারণ মানুষের উপর নিপীড়নের অভিযোগে সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে ছয় সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত এই অভিযানে সশস্ত্র চাঁদাবাজ চক্রের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার (২৪ জুন) দুপুরে তাদেরকে বান্দরবান সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন- রিপন চাকমা, বীর কুমার ত্রিপুরা, ওয়াসি মারমা, অজিত চাকমা, সুখেন চাকমা এবং অনিয়ম চাকমা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এদের বিরুদ্ধে বান্দরবানের নীলাচল, বড়ুয়ার টেক ও মিলনছড়ি এলাকায় কাঠ, কৃষিপণ্য ও পণ্যবাহী যানবাহন আটকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায়ের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্তরা পাহাড়ি একটি আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জনগণ ও ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে অবৈধ অর্থ উপার্জনে লিপ্ত ছিল।
বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদ পারভেজ গণমাধ্যমকে জানান, “আটক ছয়জনকে সেনাবাহিনী থানায় হস্তান্তর করেছে। তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
এদিকে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই কিছু আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনের ছত্রছায়ায় চাঁদাবাজি, অপহরণ, ও জুলুম-নিপীড়ন চলছিল। সেনাবাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় এসব অপরাধী চক্র এখন একে একে ধরা পড়ছে। এতে পার্বত্য অঞ্চলের জননিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।


