পরিশ্রম আর সৃজনশীলতার সম্মিলিত ফসল হিসেবে বিশ্ব মঞ্চে নতুন করে উজ্জ্বল হলেন বাংলাদেশি স্থপতি দৃষ্টি চাকমা। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) এই প্রাক্তন শিক্ষার্থীর আঁকা একটি চিত্রকর্ম জায়গা করে নিয়েছে লন্ডনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক শিল্প প্রদর্শনী ‘লন্ডন ক্রিয়েটস ২০২৫’-এ।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পাঠানো ৭ হাজারেরও বেশি শিল্পকর্মের মধ্য থেকে সেরা নির্বাচিত চিত্রগুলোর অন্যতম হিসেবে দৃষ্টির কাজটি স্থান পেয়েছে ‘ড্রয়িং অব দ্য ইয়ার অ্যাওয়ার্ডস ২০২৫’-এর আওতায়। যুক্তরাজ্যভিত্তিক খ্যাতনামা স্থাপত্য প্ল্যাটফর্ম আর্কিসোর্স এই প্রদর্শনীর আয়োজন করে, যা অনুষ্ঠিত হয় লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী ট্রুম্যান ব্রিউয়ারিতে।
বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স ইন আর্কিটেকচার প্রোগ্রামে অধ্যয়নরত দৃষ্টি চাকমা তাঁর চিত্রকর্মটি তৈরি করেন ডিজাইন স্টুডিও ‘আর্ট, কালচার অ্যান্ড আদার থিংস’-এর অধীনে, স্বনামধন্য শিক্ষক স্যামুয়েল হান্টার-এর তত্ত্বাবধানে। এই কাজটি তিনি যৌথভাবে সম্পন্ন করেন আরেক স্থপতি হৃষীতা সিংহ-এর সঙ্গে।
এই অভিজাত প্রদর্শনীতে দৃষ্টির কাজের পাশাপাশি স্থান পেয়েছে বিশ্বখ্যাত স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান ফোস্টার + পার্টনার্স এবং আরএসএইচপি-এর শিল্পকর্ম। প্রদর্শনীতে নির্বাচিত শিল্পগুলো বাছাই করেছেন একদল আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিপ্রাপ্ত স্থপতি ও শিল্প-সমালোচক, যার মধ্যে ছিলেন নারিন্দর সাগু, জিম হেভারিন, উইল জনস্টন, স্যাম কনওয়ে, এলিজা গ্রোভেনর, এবং আর্কিসোর্সের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ম্যানসেল হেইন্স ও এমিলি গ্লিন।
এই অনন্য স্বীকৃতি প্রসঙ্গে দৃষ্টি চাকমা তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুভূতি প্রকাশ করে লেখেন, “এটি নিঃসন্দেহে আমার জন্য এক গর্বের মুহূর্ত। একটি একাডেমিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে তৈরি এই চিত্রকর্মটি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় স্থাপত্য প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশে স্থান পেয়েছে — এটি আমার পরিশ্রমের বড় পুরস্কার।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই চিত্রকর্মটি ‘ড্রয়িং অব দ্য ইয়ার ২০২৫’ শীর্ষক গ্রন্থেও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যেখানে বছরের শ্রেষ্ঠ শিল্পকর্মগুলো স্থান পেয়েছে।
দৃষ্টির এই অর্জন প্রমাণ করে, সৃজনশীলতা, একাগ্রতা ও পরিশ্রমই একটি প্রতিভাকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। তাঁর সাফল্য বাংলাদেশের তরুণ স্থপতি ও শিল্পীদের জন্য অনুপ্রেরণার এক দীপ্তময় উদাহরণ।
-পার্বত্য সময়


