বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে মিয়ানমারের ভেতরে স্থলমাইন বিস্ফোরণে মো. জুবায়ের (২৬) নামে এক বাংলাদেশি যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার (২৬ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের চেরারমাঠ সীমান্ত পিলারের শূন্যরেখার ওপারে এ ঘটনা ঘটে।
আহত মো. জুবায়ের উপজেলার সদর ইউনিয়নের লম্বামাঠ এলাকার আবদুল হকের ছেলে। স্থানীয়রা জানান, জুবায়ের দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তপথে চোরাচালান পণ্য বহনের সাথে জড়িত ছিলেন। ঘটনার দিনও তাকে সীমান্তের দিকে যেতে দেখা যায়। সন্ধ্যায় মিয়ানমারের ভেতরে ঢুকে পণ্য সংগ্রহের সময় আগে পুঁতে রাখা স্থলমাইন বিস্ফোরিত হলে তার বাম পায়ের গোড়ালিসহ পুরো পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে তাকে নাইক্ষ্যংছড়ি হয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করায়। বর্তমানে সে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
অন্যদিকে, জুবায়েরের পরিবার দাবি করছে, তিনি লাকড়ি সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন। তবে স্থানীয় সূত্র ও সীমান্ত চৌকির দায়িত্বপ্রাপ্তদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাস্থল শূন্যরেখার ওপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে অবস্থিত, যেখানে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ। এ অঞ্চল দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চোরাচালান কার্যক্রম চলে আসছে বলে জানা যায়।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসরুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের ভেতরে স্থলমাইন বিস্ফোরণে লম্বামাঠ এলাকার এক যুবক আহত হয়েছেন। বিস্তারিত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মিয়ানমারের সামরিক জান্তা বাহিনী নিজেদের নিরাপত্তার নামে সীমান্তঘেঁষা এলাকাগুলোতে নির্বিচারে স্থলমাইন পুঁতে রেখেছে। যার মারাত্মক ঝুঁকি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জন্য ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। এর আগেও নাইক্ষ্যংছড়ি ও টেকনাফ সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
অথচ, বাংলাদেশ সরকার বারবার প্রতিবাদ জানালেও মিয়ানমার সীমান্তে মাইন পুঁতে রাখার প্রক্রিয়া বন্ধ হয়নি। বরং চোরাচালান, মানবপাচার এবং অস্ত্র পাচারের মতো অবৈধ কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্তদের এই মাইনের শিকার হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে।
স্থানীয় জনগণ বলছে, সীমান্তে নজরদারি জোরদার না হলে এমন দুর্ঘটনা আরও বাড়বে। চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের রোধ করতে এবং সাধারণ মানুষকে সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে দূরে রাখতে প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে।

-পার্বত্য সময়