বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় কম খরচ ও দীর্ঘমেয়াদী আয়ের সম্ভাবনা দেখে পান চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা। এবার উপজেলার সদর ইউনিয়ন, চৈক্ষ্যং ইউনিয়ন ও নয়াপাড়ায় পান চাষে আশানুরূপ ফলন হয়েছে। আলীকদমের বিভিন্ন ইউনিয়নের পান বরজে নজরকাড়া দৃশ্য দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, যেখানে এই ফসল চাষে আগ্রহী হয়েছেন প্রান্তিক পর্যায়ের অনেক কৃষক।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পান চাষে প্রথমে জমিতে কাটিং লাগিয়ে লতা তৈরির পর কয়েক মাসের মধ্যেই শুরু হয় পান সংগ্রহ। প্রতি বিঘা জমিতে পান চাষ করে বছরে প্রায় চার লাখ টাকা আয় করা সম্ভব বলে জানান তারা। তুলনামূলকভাবে অন্যান্য ফসলের চেয়ে কম রাসায়নিক সার এবং বেশি জৈব সার ব্যবহারে পান চাষ পরিবেশবান্ধবও।
এবার আলীকদমের ৩টি ইউনিয়নে প্রায় ৪০ হেক্টর জমিতে পান চাষ হয়েছে। সদর ইউনিয়নে ৩১ হেক্টর, চৈক্ষ্যং ইউনিয়নে ৫ হেক্টর এবং নয়াপাড়া ইউনিয়নে ২ হেক্টর জমিতে চাষ হচ্ছে। বর্তমানে ২০০ জন কৃষক পান চাষ করছেন এবং এর সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে।
স্থানীয় কৃষক মো. মনু জানান, প্রথমে ২৫ শতাংশ জমিতে শুরু করলেও এখন তার ১ বিঘা জমিতে পান বরজ রয়েছে। তিনি জানান, সঠিক পরিচর্যা করলে নতুন বরজ থেকে ছয় মাসের মধ্যেই পান সংগ্রহ শুরু করা সম্ভব। অন্যদিকে, কলার ঝিরির চাষি মো. করিম জানান, তামাক চাষ থেকে পান চাষে আসায় এখন তার অর্থনৈতিক অবস্থা অনেক ভালো হয়েছে।
উপজেলা কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তা উজ্জল কুমার দে জানান, পান চাষে পচনসহ অন্যান্য রোগ থেকে রক্ষায় কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা বলেন, পান চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করতে কৃষি বিষয়ক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং আগামী অর্থবছরে প্রণোদনা প্রকল্পের জন্য সরকারকে প্রস্তাবনা পাঠানো হবে।

-পার্বত্য সময়