সারাদেশের ন্যায় পার্বত্য জেলা বান্দরবানে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। রবিবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে জেলার সাঙ্গু, মাতামুহরি নদীসহ বিভিন্ন নদ-নদীতে বিসর্জনের মাধ্যমে বিদায় জানানো হয় দেবী দুর্গাকে।
সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার বিজয়া দশমিতে দর্পন বিসর্জন দেয়া হলেও কেন্দ্রীয় পূজা উযাপন কমিটির সিদ্ধান্তে রবিবার এই প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়। এছাড়াও শ্রী চণ্ডীর কাহিনি অনুসারে, দেবী আবির্ভূত হন আশ্বিন মাসের কৃষ্ণা চতুর্দশী তিথিতে। আর মহিষাসুরকে বধ করেন শুক্লা দশমীতে। তাই দশমীর দিনকে বিজয়া বলে চিহ্নিত করা হয়।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, মানুষের মনের আসুরিক প্রবৃত্তি কাম, ক্রোধ, হিংসা, লালসা বিসর্জন দেওয়াই মূলত বিজয়া দশমীর মূল তাৎপর্য। এ প্রবৃত্তিগুলোকে বিসর্জন দিয়ে একে অন্যের সঙ্গে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই এ আয়োজনের উদ্দেশ্য।
এদিকে, চন্ডীপাঠ, বোধন ও অধিবাসের মধ্যদিয়ে ষষ্ঠী তিথিতে ‘আনন্দময়ীর’ আগমনে গত ৯ অক্টোবর থেকে দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের সূচনা হয়। পরবর্তী ৫দিন দেশব্যাপী পূজামন্ডপগুলোতে পূজা-অর্চনার মধ্যদিয়ে ভক্তরা দেবী দুর্গার প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন। দশমী তিথিতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তা শেষ হয়। এবার দেবী দুর্গা'র আগমন ঘটে দোলায় চড়ে মর্ত্যালোকে (পৃথিবী) আসেন। এতে প্রাকৃতিক বিপর্যয় রোগ-বালাই বৃদ্ধি এবং শস্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। অপরদিকে স্বর্গে বিদায় নেন ঘটকে চড়ে। যার ফলে জগতে ঝড়-বৃষ্টিতে শস্য নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ।
সনাতন ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী ফিরে গেলেন স্বর্গলোকের কৈলাসে স্বামীর ঘরে। পরের বছর শরতে আবার তিনি আসবেন এই ধরণীতে যা তার বাবার গৃহ।
বান্দরবান পূজা উদযাপন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাজেশ্বর দাশ বিপ্লব জানান, দুপুরে ভক্তদের অংশগ্রহনে সাঙ্গু নদীতে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন করার পর ভক্তরা শান্তিজল গ্রহণ করেন ও মিষ্টিমুখ করা হয়েছে।
বান্দরবানের পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার জানান, কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়া জেলার ৩২টি পূজামন্ডপে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা সম্পন্ন হয়েছে।
উল্লেখ্য, জেলা জুড়ে ৩২ টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। এসব মণ্ডপে শারদীয় উৎসব নির্বিঘ্নে উদযাপন করার জন্য প্রশাসনের পাশাপাশি প্রতিটি পূজা উদযাপন কমিটিও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। প্রতিটি মণ্ডপে মণ্ডপে লাগানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি গঠন করা হয়েছিল।
মোহাম্মদ আবদুর রহিম, বান্দরবান
- -পার্বত্য সময়


