বন উজাড়, অবাধ শিকার ও পাচারের কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামে নানা প্রজাতির পাখি অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। আবাসস্থল হারিয়ে ইতোমধ্যে ধনেশ, পাহাড়ি ময়না ও কমন গ্রিন ম্যাগপাইসহ বহু প্রজাতি বিপন্ন হয়ে উঠেছে। পরিবেশবিদরা সতর্ক করে বলছেন, এসব পাখি বিলুপ্ত হলে পাহাড়ের জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।

তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট বন্য পাখির প্রায় ৭০ শতাংশের বসবাস পার্বত্য তিন জেলায়। তবে গত পাঁচ দশকে বনভূমির পরিমাণ কমে যাওয়ায় পাখির সংখ্যাও উদ্বেগজনক হারে হ্রাস পেয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, আগে পাহাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির দেখা মিললেও এখন অনেকটাই কমে গেছে। বিশেষ করে হিল ময়নাসহ বেশ কিছু প্রজাতি প্রায় বিলুপ্তির পথে। অবাধে পাখি শিকার ও বিক্রির প্রবণতাকে এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন তারা। একইসঙ্গে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরিবেশবিদদের মতে, পাখি বন বিস্তারের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বীজ বিস্তারের মাধ্যমে বন পুনর্জন্মে বড় ভূমিকা রাখে এসব পাখি। তাই পাখি রক্ষায় পাখিবান্ধব বনায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

বায়োডাইভার্সিটি কনজারভেশন সোসাইটির আহ্বায়ক সবুজ চাকমা বলেন, বনায়নে দেশীয় ও পাখিবান্ধব গাছ লাগাতে হবে। বাণিজ্যিক গাছের পরিবর্তে প্রাকৃতিক বন পুনরুদ্ধারে গুরুত্ব দিতে হবে।

এদিকে বন বিভাগ জানিয়েছে, জীববৈচিত্র্য রক্ষায় চিরসবুজ প্রজাতির বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পাখি শিকার ও পাচার বন্ধে বিভিন্ন রেঞ্জে টহল জোরদার করা হয়েছে।

খাগড়াছড়ি বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ফরিদ মিঞা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম পাখি ও বন্যপ্রাণীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল। শিকার বা পাচারের তথ্য পেলেই দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে উদ্ধার করে বনে অবমুক্ত করা হচ্ছে।

বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রায় ৪৯৭ প্রজাতির পাখির দেখা মেলে। তবে পরিবেশবাদীদের মতে, এই বৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখতে হলে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের কঠোর প্রয়োগ এখন সময়ের দাবি।
 

সূত্র- ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভি অনলাইন