পাহাড়ের প্রধান সামাজিক উৎসব বিজু, সাংগ্রাই, বৈসুক, বিষু ও বিহু এবং বাংলা নববর্ষকে বরণ করতে যখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে, ঠিক তখনই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়েছে পাহাড়ী যুবকদের দুটি পক্ষ। বুধবার (৮ এপ্রিল) রাতে রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট মাঠে স্থানীয় ব্যান্ড দল 'লরেই'-এর সংগীত পরিবেশনার সময় এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অনুষ্ঠান চলাকালে দর্শক গ্যালারিতে উপস্থিত যুবকদের মধ্যে নৃত্য করার সময় অসাবধানতাবশত একজনের পা অন্যজনের ওপর পড়ে যায়। উৎসবের আমেজে মদ্যপ অবস্থায় থাকায় বিষয়টি নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। মুহূর্তেই তা ‘মনোঘর’ এবং ‘ট্রাইবাল আদম’ নামে পরিচিত দুটি গ্রুপের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং রণক্ষেত্রে রূপ নেয়।
অভিযোগ উঠেছে, সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট ভবনের দ্বিতীয় তলায় স্থাপিত ১০টি খাবারের স্টলে খাবারের আড়ালে পাহাড়ের ঐতিহ্যবাহী পানীয় ‘চুয়ানী’ বা দেশি মদ অবাধে বিক্রি করা হচ্ছিল। গভীর রাত পর্যন্ত অনুষ্ঠান চলায় অনেক যুবক অতিরিক্ত মদ্যপান করে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। নেশার ঘোরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাহাড়ের নিজস্ব কৃষ্টির এই মিলনমেলায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়।
সংঘর্ষে দুই পাহাড়ী যুবক গুরুতর আহত হলে তাদের রাঙামাটি সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আহতদের অনুসরণ করে ‘ট্রাইবাল আদম’ গ্রুপের সদস্যরা সশস্ত্র অবস্থায় হাসপাতালের দিকে অগ্রসর হয়ে পুনরায় হামলার চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আক্রমণকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
পাহাড়ের ঐতিহ্যবাহী এই বড় উৎসবে এ ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনাকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।


