খাগড়াছড়িতে এক ঠিকাদারকে মারধর, চাঁদাবাজি এবং ছিনতাইয়ের অভিযোগে বিএনপির সহযোগী সংগঠন যুবদল ও ছাত্রদলের ১৩ নেতা-কর্মীসহ আরও অজ্ঞাতনামা ৮৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ঠিকাদার কিশোর কুমার ২৭ এপ্রিল খাগড়াছড়ি সদর থানায় মামলা করেন। মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, ২৪ এপ্রিল দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বালুমহালের ইজারার দরপত্র জমা দিতে গিয়ে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীদের হামলার শিকার হন। ওই সময় হামলাকারীরা কিশোরের পকেট থেকে দরপত্র ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং তাকে মারধর করে। পাশাপাশি তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে দরপত্র জমা না দিতে বলা হয়।
মামলায় জেলা যুবদলের সভাপতি মো. সবুজ, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. জাহিদ, ছাত্রদলের সহসভাপতি সাগর নোমান, সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. ইব্রাহীম, সম-অধিকার খাগড়াছড়ি জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও ৮৭ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে যে, হামলাকারীরা ঠিকাদারকে ঘিরে ধরে মারধর করে এবং তার কাছ থেকে নগদ টাকা ও দরপত্র ছিনিয়ে নেয়। তারা হুমকি দেয়, ভবিষ্যতে ঠিকাদারি করতে হলে চাঁদা দিতে হবে।
ঠিকাদার কিশোর কুমার অভিযোগ করেছেন, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে খাগড়াছড়িতে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে আসছে, যার কারণে সাধারণ ঠিকাদাররা আতঙ্কিত।
এদিকে, ঘটনার প্রতিবাদে ২৭ এপ্রিল খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সাধারণ ছাত্রজনতা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। সমাবেশে বক্তারা বলেন, "সরকারি কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে।" তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবি জানান। অন্যথায়, কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুমকি দেন।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন যে, অভিযুক্ত মো. ইব্রাহীম দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি ও দখলবাজিতে জড়িত এবং সাগর নোমান জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের জামাতা হওয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে।
এছাড়া, জাতীয় নাগরিক পার্টির খাগড়াছড়ি জেলা শাখার নেতারা এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন।
খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বাতেন মৃধা জানিয়েছেন, "মামলাটি থানায় রেকর্ড করা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

-পার্বত্য সময়