পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রধান সামাজিক উৎসব বৈসাবি উপলক্ষে খাগড়াছড়িতে অনুষ্ঠিত হলো বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা এবং সাঁওতাল সম্প্রদায়ের নানা বয়সী মানুষ ঐতিহ্যবাহী পোশাক, গহনা, বাদ্যযন্ত্র নিয়ে অংশ নেন এই আয়োজনে।
মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টায় খাগড়াছড়ি শহরের চেঙ্গী স্কয়ার থেকে শুরু হয়ে শোভাযাত্রাটি শেষ হয় নিউজিল্যান্ড মাঠে। এতে অংশ নেয় প্রায় দেড় হাজারের বেশি মানুষ। শোভাযাত্রা শেষে পরিবেশিত হয় ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী গরিয়া নৃত্য।
আয়োজক সর্বজনীন বৈসাবি উদযাপন কমিটি জানায়, ‘বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, চাংক্রান, বিহু, বিষু ও পাত’ নামে বিভিন্ন নামে পালিত হলেও উৎসবের মূলতত্ত্ব একই—পুরনো বছরের বিদায় এবং নতুন বছরের আগমন উদ্যাপন।
শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া অন্বেষা তালুকদার বলেন, “কয়েকদিন পরই আমাদের ফুল বিজু। আগেভাগেই আজকের শোভাযাত্রা হয়েছে। নানা বয়সের মানুষ অংশ নিয়েছে, খুব ভালো লাগছে।”
মারমা তরুণী উইলিপ্রু মারমা জানান, “বন্ধুদের সঙ্গে শোভাযাত্রায় অংশ নিতে পেরে খুব আনন্দ লাগছে। ট্রাকে করে গান করেছি, নাচ করেছি। অনুষ্ঠানটা খুবই রঙিন হয়েছে।”
উদ্যাপন কমিটির সমন্বয়ক ভুলাস ত্রিপুরা বলেন, “আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধরে রাখতেই প্রতি বছর এই আয়োজন করি। এবার দেড় হাজারের বেশি মানুষ অংশ নিয়েছে। শুধু চাকমা, মারমা, ত্রিপুরাই নয়—সাঁওতাল সম্প্রদায়ের লোকজন এবং বান্দরবানের মুরং শিল্পীরাও অংশ নিয়েছেন।”
বৈসাবি উপলক্ষে খাগড়াছড়ি পৌর এলাকার নিউজিল্যান্ড মাঠে শুরু হয়েছে দুই সপ্তাহব্যাপী মেলা। সেখানে ঐতিহ্যবাহী পোশাক, অলংকার ও খাবার পাওয়া যাচ্ছে। মেলা চলবে আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত।
এদিকে উৎসব ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে প্রশাসন। খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল বাতেন মৃধা জানান, “বৈসাবিকে ঘিরে মেলা, শোভাযাত্রা, খেলাধুলাসহ নানা আয়োজন চলছে। আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত সতর্কতা নিয়েছি। আশা করি, সুন্দরভাবে আয়োজন শেষ করতে পারব।”
-পার্বত্য সময়


