খাগড়াছড়ির ভারতীয় সীমান্তবর্তী বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে শতাধিক ভারতীয় মুসলিম নাগরিককে বাংলাদেশে পুশ-ইন করার ঘটনায় সীমান্ত জুড়ে ব্যাপক উদ্বেগ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ মে) ভোর থেকে বিজিবির অন্তত তিনটি ব্যাটালিয়নের আওতাধীন সীমান্ত এলাকায় এসব বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশের ঘটনা ঘটেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ৪০ বিজিবির খেদাছড়া ব্যাটালিয়নের অধীন বেলছড়ি ও শান্তিপুর বিওপির মধ্যবর্তী এলাকা দিয়ে ভোর ৫টার দিকে ২৭ জন ভারতীয় মুসলিম নাগরিক বাংলাদেশে প্রবেশ করে। তারা মাটিরাঙ্গা উপজেলার গোমতি ইউনিয়নের শান্তিপুর ও হাজীপাড়া এলাকায় আশ্রয় নেয়।
এছাড়া, ২৩ বিজিবির তাইন্দং বিওপির আওতাধীন যামিনীপাড়া সীমান্ত দিয়ে আরও ২২ জন ভারতীয় নাগরিক মাটিরাঙ্গায় প্রবেশ করে। একইভাবে, ৩২ বিজিবির রুপসেনপাড়া বিওপি এলাকার সীমান্ত অতিক্রম করে পানছড়ি উপজেলায় অনুপ্রবেশ করে আরও ৩০ জন ভারতীয় মুসলিম।
বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, অনুপ্রবেশকারীরা সবাই গুজরাট রাজ্যের বাসিন্দা এবং তাদের দাবি, পূর্বপুরুষরা বাংলাদেশি ছিলেন। এ অজুহাতে বিএসএফের সহযোগিতায় তাদের বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে। বিএসএফের সরাসরি তত্ত্বাবধানে ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকায় আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জন গুজরাটি মুসলিম অবস্থান করছে, যাদের বাংলাদেশে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। খেদাছড়া, যামিনীপাড়া ও পানছড়ি সীমান্ত দিয়ে পর্যায়ক্রমে তাদেরও বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিকল্পিত অনুপ্রবেশ ভারতের সুপরিকল্পিত ‘পুশ-ইন’ নীতির ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার পরিপন্থী।
সূত্র মতে, গুজরাট রাজ্য থেকে বিমানযোগে এইসব মুসলিম নাগরিকদের ত্রিপুরা রাজ্যে এনে বিএসএফের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থান করানো হয়েছে। এরপর পরিকল্পিতভাবে তাদের বাংলাদেশের ভূখণ্ডে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
এই ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে বিজিবি। পাশাপাশি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কূটনৈতিকভাবে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানো হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
-পার্বত্য সময়


