সম্প্রতি ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে বান্দরবানের রুমা উপজেলার একটি বৌদ্ধবিহারে ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগানো হয়েছে। তবে ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধান বলছে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সত্য হলেও এর সূত্রপাত বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে হয়েছে। বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ ইন্দ্রাবংশ ভিক্ষুও এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দাবি করা হচ্ছে, বাংলাদেশে উগ্রপন্থী গোষ্ঠী বৌদ্ধবিহারে হামলা চালিয়ে আগুন লাগিয়েছে। এমনকি এক্স-এও এই ভিডিও ছড়িয়ে এটি সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তবে রিভার্স ইমেজ সার্চে দেখা গেছে, Ñung Mouñg নামের একটি ফেসবুক পেজে একই অগ্নিকাণ্ডের ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ধারণ করা ভিডিও রয়েছে। সেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, শর্টসার্কিট থেকে আগুন লেগেছিল।
প্রথম আলোসহ একাধিক সংবাদমাধ্যমেও এ ঘটনা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, বৌদ্ধবিহারটি বান্দরবানের রুমা উপজেলার পাইন্দু ইউনিয়নের মংশৈপ্রু পাড়ায় অবস্থিত। দুর্গম এলাকা হওয়ায় সেখানে ফায়ার সার্ভিস পৌঁছাতে পারেনি। কাঠ ও বাঁশের তৈরি হওয়ায় এবং প্রবল বাতাস থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও সফল হননি।
বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর, দৈনিক জনকণ্ঠ, দৈনিক কালবেলা ও ডিবিসি নিউজ-সহ বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমও এই ঘটনার কারণ হিসেবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের বিষয়টি উল্লেখ করেছে। তবে অগ্নিকাণ্ডকে উদ্দেশ্যমূলক সাম্প্রদায়িক হামলা বলে প্রচার করা হলেও তার পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য মেলেনি।
ফ্যাক্টওয়াচের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো পোস্টগুলো বিভ্রান্তিকর এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

-পার্বত্য সময়