বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের মারাইংতং জাদী মহা বৌদ্ধ বিহারে হামলা ও বৌদ্ধ মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, উপাসনালয়ের পবিত্রতা লঙ্ঘন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে স্থানীয় হেডম্যান অং হ্লা চিং মামলাটি দায়ের করেন।
শনিবার (২৪ মে) সকালে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন আলীকদম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির্জা জহির উদ্দিন। তিনি জানান, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় তদন্ত কাজ শুরু হয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
থানায় দায়েরকৃত মামলার নম্বর-০৪। ২১ মে বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৩টায় মারাইংতং জাদী মহাবৌদ্ধ বিহারে সংঘটিত হামলার বিষয়ে এজাহারে বলা হয়েছে, হুকুমদাতার নির্দেশে অভিযুক্তরা বেআইনিভাবে দলবদ্ধ হয়ে বিহারে প্রবেশ করে, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের উদ্দেশ্যে বিহারের পবিত্র বস্তু ও স্থাপনা ভাঙচুর করে, এবং বিহার এলাকা অপবিত্র ও সম্পদের ক্ষতিসাধন করে। এ সময় তারা ভীতি প্রদর্শন ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।
মামলায় যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তারা হলেন- চংপাত ম্রো (হেডম্যান, ২৮৫নং সাঙ্গু মৌজা),উথোয়াই মার্মা জয়, মিয়ং ম্রো,রেংচং ম্রো,লুকুত ম্রো,ঞাবুট ম্রো,তাতুই ম্রো,সাকতাই ম্রো,ওয়েডিং ম্রো,সাকনাই ম্রো,মাংওয়াই ম্রো এছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও ১০–১৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
ঘটনার পর স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই ঘটনাটিকে ধর্মীয় সহনশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন। তারা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় এক বৌদ্ধ ভিক্ষু বলেন, “এটি শুধু একটি বিহারে হামলা নয়, এটি আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও পরিচয়ের ওপর সরাসরি আঘাত। আমরা বিচার চাই।”
ওসি মির্জা জহির উদ্দিন বলেন, “ধর্মীয় স্থাপনায় হামলার ঘটনায় প্রশাসন অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চালাচ্ছে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।”

-পার্বত্য সময়