রাঙামাটিতে এক তঞ্চঙ্গ্যা তরুণীকে ধারাবাহিক ধর্ষণের পর গর্ভপাতের অভিযোগে নিকোলাস চাকমা নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে কোতয়ালী থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত নিকোলাস চাকমা রাঙামাটি শহরের দক্ষিণ কালিন্দিপুর এলাকার বাসিন্দা মিলন বিকাশ চাকমার ছেলে। ভুক্তভোগী নারী গত ১০ জানুয়ারি ২০২৫ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় মামলা দায়ের করেন, যা রাঙামাটি কোতয়ালী থানায় নথিভুক্ত হয়।

থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সাহেদ উদ্দিন জানান, আদালতের নির্দেশনায় ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করার পর আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হয়। প্রযুক্তির সহায়তা ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে খাগড়াছড়ি থেকে নিকোলাস চাকমাকে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ভুক্তভোগী তঞ্চঙ্গ্যা তরুণী রাঙামাটি সদর উপজেলার জীবতলীর কুশল্যাঘোনার বাসিন্দা। রাঙামাটি শহরের চম্পকনগরে ভাড়া বাসায় থেকে পড়াশোনা করছিলেন। ২০২১ সালে নিকোলাস চাকমার সঙ্গে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ সালে নিকোলাস তরুণীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। পরে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কে জড়ানোর ফলে তরুণী গর্ভবতী হয়ে পড়েন।

২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বর ডাক্তারি পরীক্ষার মাধ্যমে গর্ভধারণ নিশ্চিত হয়। এরপরও নিকোলাস তার সঙ্গে সম্পর্ক অব্যাহত রাখেন এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে চলেন। ২০২৪ সালের ২৮ জুন রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে তরুণী একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু নিকোলাস তার পরিবার এই সন্তান মেনে নেবে না বলে জানিয়ে তাকে নিজের বাসায় না নিয়ে তার বড় ভাই প্রণব চাকমার কালিন্দিপুরের বাসায় আশ্রয় দেয়।

২০২৪ সালের ২ জুলাই নিকোলাস চাকমা জোর করে নবজাতককে মায়ের কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে মহালছড়ির রিপন চাকমা ও পুর্ণিমা চাকমা দম্পতির কাছে দত্তক দেন। এরপর তিনি ভুক্তভোগী তরুণীকে ফেলে রেখে পালিয়ে যান এবং খাগড়াছড়িতে গিয়ে আরেকটি বিয়ে করে সংসার শুরু করেন।

অবশেষে ৭ জানুয়ারি ২০২৫ সালে ভুক্তভোগী আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বিষয়টি আমলে নিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মামলা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

রাঙামাটির নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মাকসুদা হক জানান, 'আসামি গ্রেপ্তার হওয়ায় ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচারের পথ সুগম হয়েছে। পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করা হবে।' তিনি আশ্বাস দেন, ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার নিশ্চিতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানো হবে।
 

  • -পার্বত্য সময়