ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পর খাগড়াছড়িতে চেঙ্গী নদীর পানি দ্রুত বাড়া-কমার কারণে নদীর তীর ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে বসতবাড়ি, ফসলি জমি, বাগান ও রাস্তা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। আতঙ্কে দিন কাটছে নদী তীরবর্তী মানুষদের।
সদর উপজেলার যুবরাজ কাবারীপাড়া, পল্টনজয়পাড়া, বেলতলীপাড়া, চেঙ্গীব্রীজ, রাজবাড়ি মারমাপাড়া, গঞ্জপাড়া, দক্ষিণ গোলাবাড়ি, রাজ্যমনিপাড়া, কালাডেবাপাড়া, বটতলী, ফুটবিল ও কমলছড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে।

নদীভাঙনে ঘর অর্ধেক বিলীন হয়ে গেছে। ছবি: সংগৃহীত


স্থানীয় কৃষকরা জানান, দক্ষিণ গঞ্জপাড়ার প্রায় ৬৪ জন কৃষক সারাবছর সবজি চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। নদীর ভাঙনে তাঁদের ফসলি জমি বিলীন হচ্ছে। এক কৃষক বলেন, “আগাম শীতকালীন সবজি বপন করেছি। ভাঙনে সব শেষ হয়ে গেছে। ক্ষতির পরিমাণ ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।”
শুধু নদী নয়, ছড়ার তীরেও দেখা দিয়েছে ভাঙন। ভারি বর্ষণে খাগড়াছড়ি সদরের মহালছড়ার দুই পাড়ে ফসলি জমি, বাগান, বসতবাড়ি ও পোলট্রি খামার বিলীন হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বৃষ্টি হলে সারারাত জেগে পাহারা দিতে হয়।এছাড়া মাটিরাঙ্গা উপজেলার চরপাড়া ও মন্দিরপাড়ায় ধলিয়া খালের স্রোতে বাড়িঘর, রাস্তা ও গাছপালা ভেঙে যাচ্ছে। 
সংবাদমাধ্যম আজকের পত্রিকার খবরে বলা হয়- মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনজুর আলম বলেন, ক্ষয়ক্ষতির খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে তিনটি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দেওয়া হবে এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড খাগড়াছড়ির উপ-সহকারী প্রকৌশলী নিখিল চাকমা জানান, জেলার বিভিন্ন এলাকায় একশটির বেশি ভাঙন পয়েন্ট শনাক্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে প্রতিরোধমূলক কাজ শুরু করা হবে।