পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসরত বাঙালি-অবাঙালি সব নাগরিককে ‘পাহাড়ি’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন আলোচিত রাজনীতিবিদ ইঞ্জিনিয়ার থোয়াই চিং মং শাক। ‘আগ্রাসন বিরোধী বাঙালি অ-বাঙালি নাগরিক সমাজ’- এর ব্যানারে রোববার (১ জুন) বিকাল ৩টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তিনি।
তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসরত সব নাগরিককে ‘পাহাড়ি’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। ভূখণ্ড ও সংস্কৃতির ভিত্তিতে নয়, বরং বসবাসের স্থায়িত্ব ও নাগরিক অধিকার অনুযায়ী সবাইকে ‘পাহাড়ি নাগরিক’ হিসেবে গণ্য করলে বিভেদের রাজনীতি দুর্বল হবে।
সংবাদ সম্মেলনে পার্বত্য চট্টগ্রামে ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীলতা এবং এর সঙ্গে জড়িত দেশি-বিদেশি চক্রান্ত প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়েছেন  তিনি। এ সময় তরুণ এ রাজনীতিবিদ  পার্বত্য অঞ্চলের সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, “সন্তু লারমার সঙ্গে করা পার্বত্য শান্তিচুক্তি কার্যত ফলপ্রসূ হয়নি। চুক্তির পরও পাহাড়ে সশস্ত্র তৎপরতা, চাঁদাবাজি ও বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা বন্ধ হয়নি। বরং সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-নির্ভরতা আরও বেড়ে এই অঞ্চলকে ভারতের অঙ্গরাজ্য বানানোর ষড়যন্ত্র গভীরতর হয়েছে।”
সন্তু লারমার চলমান ভারতে অবস্থান নিয়েও উদ্বেগ জানান ইঞ্জিনিয়ার থোয়াই চিং মং শাক। তার ভাষায়, “ভারতে বসে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামকে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে নেওয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি।”
তিনি আরও বলেন, “পার্বত্য চুক্তি আদতে একটি পক্ষীয় রাজনৈতিক চুক্তি হয়ে পড়েছে। সেখানে পাহাড়ি-বাঙালি উভয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও অধিকার সুরক্ষিত হয়নি। বরং কিছু গোষ্ঠী একচেটিয়া রাজনৈতিক-অস্ত্রবাজি করে পাহাড়কে জিম্মি করে রেখেছে।”
সম্প্রতি উদ্ধার হওয়া ‘কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট’ (কেএনএফ)-এর পোশাক প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “প্রতিষ্ঠানটির নামে যেসব সামরিক পোশাক উদ্ধার হয়েছে, সেগুলোর সংখ্যা ও প্রাপ্তিস্থান নিয়ে প্রশাসনের বক্তব্য ও বাস্তবতার মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে। এ পোশাকগুলো কোনো গোপন সন্ত্রাসী সংগঠনের হতে পারে। এ নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।”
তিনি সশস্ত্র সংগঠনের সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, “অস্ত্র নয়, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াই হওয়া উচিত সমস্যার সমাধান। তাই যারা এখনো অস্ত্র হাতে পাহাড়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন, তাদের প্রতি আহ্বান- আত্মসমর্পণ করুন, স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসুন।”
সংবাদ সম্মেলনে ইউনাইটেড ইয়াং ফোর্সের আহ্বায়ক মো. শাকিল মিয়া বলেন, “দেশের স্বাধীনতা ও অখণ্ডতা রক্ষায় সকল নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। পরাশক্তির ছত্রছায়ায় যারা দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করছে, তাদের রাজনৈতিক ও আইনগতভাবে প্রতিহত করতে হবে। শেখ হাসিনা হোক বা সন্তু লারমা- যেই হোক, দেশের স্বার্থবিরোধী কাজে জড়িত থাকলে তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন শাওন আহমেদ আরাবী, শামসুল আরেফিন মানিকসহ নাগরিক সমাজের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

-পার্বত্য সময়