পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি, সহাবস্থান, নিরাপত্তা ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সচেতনতামূলক কর্মসূচি শুরু করেছে সিএইচটি সম্প্রীতি জোট। এর অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) বান্দরবানের সীমান্তবর্তী নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বিভিন্ন মারমা গ্রাম, স্থানীয় বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করে সংগঠনটি। তিন পার্বত্য জেলায় চলমান মাসব্যাপী এই প্রচারণার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয় নাইক্ষ্যংছড়ি থেকেই।

সকালে শুরু হওয়া কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন সম্প্রীতি জোটের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার থোয়াই চিং মং শাক। তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের মুখপাত্র পাইশিখই মারমা, কেন্দ্রীয় সদস্য শাহীন আলম, পাইমং থুই মারমা প্রেম, চট্টগ্রাম মহানগরের সংগঠক অং সি হ্লা মারমাসহ জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী। তারা গ্রামবাসী, পথচারী, দোকানি ও শিক্ষার্থীদের হাতে লিফলেট তুলে দিয়ে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেন।

প্রচারিত লিফলেটে পার্বত্য অঞ্চলের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, ভূমি সমস্যার ন্যায়সংগত সমাধান, চাঁদাবাজি ও সহিংসতা বন্ধে জরুরি উদ্যোগ, বৈষম্যহীন সহাবস্থান, জাতিসত্তার সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তির জন্য সমন্বিত পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে পার্বত্য জেলায় সহিংসতা ও অনিয়ম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সম্প্রীতি জোট তাদের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

কর্মসূচির সময় এক বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার থোয়াই চিং মং শাক বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের মূল্যবোধ ধারণ করতে হবে। তরুণ সমাজকে বিভেদ, সহিংসতা ও উসকানিমূলক রাজনীতি থেকে দূরে রেখে উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও পারস্পরিক সম্মানজনিত সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।”

তিনি আরও ঘোষণা করেন, আগামী এক মাস ধরে বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি- এই তিন পার্বত্য জেলায় ধারাবাহিকভাবে লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি পরিচালিত হবে।

দিনব্যাপী এই কার্যক্রমে স্থানীয় মানুষের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সাড়া দেখা গেছে। অনেকেই শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয় হিসেবে স্বাগত জানান। তিন জেলায় পর্যায়ক্রমে এই প্রচারণা চালানোর মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নতুন আলোচনার সূচনা হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে সিএইচটি সম্প্রীতি জোট।