পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের স্থানীয় প্রশাসনিক ও ভূমি ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত সার্কেল চিফ (রাজা), হেডম্যান ও কারবারিদের সম্মানী ভাতা পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। সোমবার (৫ জানুয়ারি) ভূমি মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।
ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অর্থ বিভাগের পূর্বানুমোদনক্রমে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে কর্মরত ঐতিহ্যবাহী ভূমি প্রশাসনের প্রতিনিধিদের মাসিক সম্মানী ভাতা বাড়ানো হয়েছে। নতুন হার অনুযায়ী সার্কেল চিফরা মাসিক ২০ হাজার টাকা, মৌজা প্রধান বা হেডম্যানরা মাসিক ২ হাজার টাকা এবং পাড়া প্রধান বা কারবারিরা মাসিক ১ হাজার টাকা করে সম্মানী ভাতা পাবেন।
এর আগে সার্কেল চিফরা মাসিক ৫ হাজার টাকা, মৌজা প্রধান বা হেডম্যানরা মাসিক ১ হাজার টাকা এবং পাড়া প্রধান বা কারবারিরা মাসিক ৫০০ টাকা করে সম্মানী ভাতা পেতেন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সংশোধিত এই সম্মানী ভাতা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে। তবে এ খাতে কোনো অতিরিক্ত বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হবে না। বিদ্যমান রিসোর্স সিলিংয়ের মধ্যেই বাড়তি ব্যয় নির্বাহ করতে হবে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ খাতে ভবিষ্যতে অতিরিক্ত বরাদ্দ দাবি করা যাবে না বলেও স্পষ্ট করা হয়েছে।
ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিশেষ ভূমি প্রশাসনিক কাঠামোর অংশ হিসেবে সার্কেল চিফ, হেডম্যান ও কারবারিরা দীর্ঘদিন ধরে ভূমি ব্যবস্থাপনা, খাজনা আদায়, সামাজিক বিরোধ নিষ্পত্তি ও স্থানীয় প্রশাসনকে সহযোগিতার দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তবে দীর্ঘ সময় ধরে তাদের সম্মানী অপরিবর্তিত থাকায় বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি উঠছিল।
উল্লেখ্য, ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসন বিধি (হিল ট্র্যাক্টস রেগুলেশন) অনুযায়ী পার্বত্য অঞ্চল চাকমা, বোমাং ও মং- এই তিনটি সার্কেলে বিভক্ত। এই সার্কেলগুলোর আওতায় বর্তমানে শতাধিক মৌজা ও কয়েক হাজার পাড়ায় হেডম্যান ও কারবারিরা দায়িত্ব পালন করছেন। সার্কেল চিফ বা রাজা সার্কেলের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা। তিনি প্রশাসনিক অন্যান্য কাজের পাশাপাশি সরকারের কাছে উত্তলিত রাজস্ব প্রধান করে থাকেন। হেডম্যান হচ্ছেন মৌজার প্রধান। তিনি মৌজার প্রাকৃতিক সম্পদ ও রাজস্ব আদায়কারী, বিবাদ মীমাংসাকারী। একইভাবে কারবারি হলেন পাড়ার প্রধান। তিনি স্থানীয় শৃঙ্খলা ও সামাজিক বিষয় দেখাশোনা করেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সম্মানী পুনর্নির্ধারণের ফলে ঐতিহ্যবাহী ভূমি প্রশাসন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত প্রতিনিধিদের দায়িত্ব পালনে আগ্রহ ও কার্যকারিতা কিছুটা হলেও বাড়বে। তবে স্থানীয় পর্যায়ে অনেকের মতে, বর্তমান বাস্তবতায় এই সম্মানী এখনও প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তবে সরকারের এ উদ্যোগকে তারা সাধুবাদ জানান।
প্রজ্ঞাপনটি ভূমি মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মোহাম্মদ ইব্রাহীম সিরাজীর স্বাক্ষরে জারি করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে অনুলিপি প্রেরণ করা হয়েছে।


