পাহাড়ের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য হ্রাস ও টেকসই জীবিকায়ন নিশ্চিত করতে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের উদ্যোগে সাজেকে আড়াই লাখেরও বেশি কফি ও কাজুবাদামের চারা বিতরণ করা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
শনিবার (২৬ জুলাই) সাজেকের ১৪টি পাড়ার ২৮৮টি প্রান্তিক পরিবারকে এসব চারা বিতরণ করেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার। একইসঙ্গে কৃষকদের দেওয়া হয়েছে সার ও অন্যান্য কৃষি উপকরণও।
জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাজেক ইউনিয়নের ১৪টি পাড়ায় ১,৩৩,৯২০টি কফি চারা ও ১,০৬,৫৬০টি কাজুবাদাম চারা বিতরণ করা হয়েছে। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত সূপ্রদীপ চাকমার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে।
চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার বলেন, “সাজেকের জুমিয়া কৃষকরা বছরের পর বছর দারিদ্র্য আর সুযোগের অভাবে পেছনে পড়ে ছিল। এবার তাদের জীবনে টেকসই পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। চারা বিতরণের পাশাপাশি কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শসেবা দেওয়া হচ্ছে যেন তারা সঠিকভাবে রোপণ ও পরিচর্যা করতে পারে।”
তিনি আরও জানান, এই প্রকল্প চলমান থাকবে এবং আগামীতে আরও পরিবারের মধ্যে এই সহায়তা বিস্তৃত হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিষদের সদস্য দেব প্রসাদ দেওয়ান ও প্রতুল চন্দ্র দেওয়ান, সাবেক কৃষি কর্মকর্তা বাবুল তালুকদার, কর্ণফুলি নার্সারির সমন্বয়কারী শিমুল চাকমা, বেসরকারি সংস্থা ‘আশিকা’-এর নির্বাহী পরিচালক বিপ্লব চাকমা, সাজেক থানার কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জাতীয় ফুটবলার কিংশুক চাকমা।
সাজেকের প্রবীণ শিক্ষাবিদ ভদ্র সেন চাকমা বলেন, “সাজেকের মানুষ যুগের পর যুগ উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত ছিল। উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা সরেজমিনে এসে বাস্তব অবস্থা দেখে এ অঞ্চলের জন্য উদ্যোগ নিয়েছেন, এটি খুবই ইতিবাচক। তবে সঠিক তদারকি ছাড়া এই প্রকল্প সফল হবে না।”
তিনি আরও বলেন, “এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক রূপান্তরের জন্য সরকার, স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের মধ্যে সম্মিলিত প্রয়াস প্রয়োজন।”

-পার্বত্য সময়