বান্দরবানসহ পার্বত্য অঞ্চলের মারমা সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান সামাজিক উৎসব সাংগ্রাই উৎসব উদযাপনকে ঘিরে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ। প্রতিবছর বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত এ উৎসবটি এবার কমিটি–সংক্রান্ত বিরোধের কারণে সংকটের মুখে পড়েছে।
উৎসব আয়োজনকে কেন্দ্র করে দুটি পৃথক পক্ষ আলাদা কমিটি গঠন করে একই সময় ও একই স্থানে অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেওয়ায় বিরোধ চরমে পৌঁছেছে। উভয় পক্ষই নিজেদের বৈধ দাবি করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
সাধারণত বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে মারমা সম্প্রদায় তিন দিনব্যাপী সাংগ্রাই উৎসব পালন করে। উৎসবের প্রধান আকর্ষণ মৈত্রী পানি বর্ষণ বা জলকেলি। এছাড়া পিঠা তৈরি, বয়স্ক পূজা ও বুদ্ধমূর্তি স্নানসহ নানা ধর্মীয় ও সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান পালিত হয়।
প্রতিবছরের মতো এবারও রাজার মাঠে উৎসব আয়োজনের ঘোষণা দেয় ‘উৎসব উদযাপন পরিষদ’। তবে পরদিনই ‘উৎসব উদযাপন কমিটি’ নামে আরেকটি পক্ষ একই স্থানে পৃথক কর্মসূচি ঘোষণা করলে বিরোধের সূচনা হয়। পরবর্তীতে বোমাং সার্কেল চীফ একটি পক্ষকে মাঠ ব্যবহারের অনুমতি দিলে অন্য পক্ষ তা প্রত্যাখ্যান করে।
গত ৩ এপ্রিল সকালে এক পক্ষ রাজার মাঠ পরিদর্শন ও প্রস্তুতি শুরু করলে সন্ধ্যায় অপর পক্ষও সেখানে গেলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।
উৎসব উদযাপন পরিষদের সভাপতি চনু মং মারমা অভিযোগ করেন, তাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু অন্য পক্ষ মাঠে গিয়ে তাদের কিছু পতাকা সরিয়ে ফেলেছে। তিনি বলেন, সাংগ্রাই একটি সামাজিক উৎসব হওয়ায় সবাইকে নিয়ে তা উদযাপনের পক্ষে তারা।
অন্যদিকে উৎসব উদযাপন কমিটির সভাপতি চথুই ফ্রু দাবি করেন, তারা যথাযথভাবে মাঠ ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছেন এবং নির্ধারিত সময়েই উৎসব আয়োজন করবেন। তিনি জানান, এবারের আয়োজন আরও বর্ণাঢ্য হবে এবং সব জাতিগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।
মারমা সমাজের প্রবীণ নেতা অংচ মং মারমা বলেন, দুটি কমিটি হওয়ায় উৎসব আয়োজন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং এটি সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করতে পারে। বিরোধ নিষ্পত্তিতে উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনো সমাধান হয়নি বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, এই বিরোধ নিরসনে উভয় পক্ষকে নিয়ে ৫ এপ্রিল স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।


