পার্বত্য চট্টগ্রামে সক্রিয় সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফ (প্রসীত)-এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় নিষেধাজ্ঞা জারির দাবি এবং ঐকমত্য কমিশন থেকে কথিত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দোসর ড. ইফতেখারুজ্জামানকে অপসারণের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তাল বিক্ষোভ করেছে দেশপ্রেমিক শিক্ষার্থীদের সংগঠন 'স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টি'।
রোববার (১১ মে) বিকেল ৫টায় রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা বলেন, ইউপিডিএফ একটি ‘ত্রিদেশীয় সন্ত্রাসী সংগঠন’, যারা ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা 'র'-এর ছত্রচ্ছায়ায় বাংলাদেশ, ভারত এবং মিয়ানমারের আরাকান অঞ্চলে সক্রিয়। এ ধরনের একটি সংগঠনের সঙ্গে ‘জাতীয় ঐকমত্য কমিশন’ নামের একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারি উদ্যোগের বৈঠক দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত।
বিক্ষোভে ৫ দফা দাবি তুলে ধরা হয়:
১. ইউপিডিএফ-এর সঙ্গে ১৫ মে নির্ধারিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠক বাতিল।
২. ইউপিডিএফের সকল কার্যক্রম অবিলম্বে নিষিদ্ধ ঘোষণা।
৩. ঐকমত্য কমিশন থেকে ড. ইফতেখারসহ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সহযোগীদের অপসারণ।
৪. পার্বত্য চট্টগ্রামে চলমান খ্রিস্টান মিশনারি-সংশ্লিষ্ট বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা ও খ্রিস্টানাইজেশন রোধে কঠোর ব্যবস্থা।
৫. চাঁদাবাজি ও সশস্ত্র তৎপরতায় জড়িত সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় অভিযান জোরদার করা।
সমাবেশে স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টির আহ্বায়ক মো. জিয়াউল হক বলেন, ‘ভারতের 'র' এর পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত বাংলাদেশ, ভারত ও আরাকানে বিস্তৃত ইউপিডিএফের মত একটা ত্রিদেশীয় সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠনের সাথে অন্তবর্তী সরকারের জাতীয় ঐকমত্য কমিশন কীভাবে বৈঠক করার নৈতিক সাহস পেলো, সেটা আমাদের বুঝে আসছে না। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি ঐকমত্য কমিশনের ভূমিকা ও দায়বদ্ধতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঐকমত্য কমিশনের যেসব সদস্যের সহায়তায় ইউপিডিএফকে রাজনৈতিক সংগঠনের স্বীকৃতি দিতে বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে তাদেরকে অতিদ্রুত অপসারণ করতে হবে, শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’
এসময় সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক মুহিউদ্দিন রাহাত বলেন, ‘রোহিঙ্গা গণহত্যাকারী আরাকান আর্মীর সহযোগী সন্ত্রাসী সংগঠন ইউপিডিএফকে রাজনৈতিক স্বীকৃতি প্রদান মানে পাহাড়ের স্বায়ত্তশাসনকে স্বীকৃতি প্রদান করা একই কথা। এর পরের ধাপই হচ্ছে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের স্বপ্নের জুম্মল্যান্ড গঠন। ইউপিডিএফের সাথে ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে বিচ্ছন্নতাবাদকেই উস্কে দেয়া হলো। অতিদ্রুত টিআইবির ইফতেখারসহ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দোসরদেরকে ঐকমত্য কমিশন থেকে অপসারণ করতে হবে।’
সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিভ্রান্তিকর ভূমিকা পালন করছে। একটি সন্ত্রাসী, ধর্মান্তর-সহায়ক, চাঁদাবাজ সংগঠনকে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে ডেকে এনে আলোচনার নামে বৈধতা দেওয়া জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই বিক্ষোভ শুধুই ইউপিডিএফবিরোধী নয়, এটি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে। তথাকথিত 'সুশীল সমাজ' পার্বত্য চট্টগ্রামে বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তির জন্য নরম ভূমিকা নিচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত রোহিঙ্গা সমস্যার মতোই আরেকটি ‘আন্তর্জাতিক কনফ্লিক্ট জোন’ তৈরি করতে পারে।

-পার্বত্য সময়