খাগড়াছড়িতে ধর্ষণ ও সহিংসতার ঘটনাকে কেন্দ্র করে একদল নাগরিক, শিক্ষক, আইনজীবী, সাংবাদিক ও শিল্পী একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন। তবে বিবৃতির বিষয়বস্তু ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি প্রকৃত মানবাধিকারের পক্ষে দাঁড়ানো, নাকি কেবল একপক্ষীয় অবস্থান প্রকাশ করা?

বিবৃতিতে বলা হয়েছে— খাগড়াছড়ির ঘটনায় অন্তত ৩ জন নিহত এবং ৩০ জন আহত হয়েছেন, যাদের সবাইকে ‘আদিবাসী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে যে, সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে।

এই বিবৃতিতে যাদের নাম উল্লেখ রয়েছে তারা হলেন- আলোকচিত্রী শহীদুল আলম, সাংবাদিক তাসনিম খলিল, সাংবাদিক সায়দিয়া গুলরুখ, সংগীতশিল্পী বীথি ঘোষ, লেখক ফিরোজ আহমেদ, শিক্ষক ও নাট্যকর্মী সামিনা লুৎফা, ঢাবি শিক্ষক মোশাহিদা সুলতানা, ঢাবি শিক্ষক রুশাদ ফরিদী, ঢাবি শিক্ষক তাসনীম মাহবুব, আইনজীবী সারা হোসেন, আইনজীবী মানজুর আল মতিন, আইনজীবী ড. কাজী জাহেদ ইকবাল, অধিকারকর্মী  নাফিউল আলম সুপ্ত, অ্যাক্টিভিস্ট প্রাপ্তি তাপসী, মাসুদ রানা, তামীম স্রোত,  ইসাবা শুহরাত ও ফারজানা ওয়াহিদ সায়ান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, এনজিও আর এডভোকেসির নামে কিছু লোক সব সময় বিদেশি অর্থায়নের সুবিধা নেয়। সেই টাকায় তারা শুধু উপজাতিদের ভিকটিম বানায়, বাঙালিদের দুঃখ-ক্ষতি আড়াল করে। এর মধ্যে বিদেশি কোনো দেশের প্রভাব বা ষড়যন্ত্রও থাকতে পারে।

সমালোচকরা বলছেন, এই বিবৃতিতে ঘটনাকে উপজাতি বনাম সেনাবাহিনী আকারে দাঁড় করানো হয়েছে। অথচ—সহিংসতায় শুধু উপজাতিই নয়, বাঙালিরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বহু বাঙালির ঘরবাড়ি ও দোকানপাট পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিবৃতিতে এ প্রসঙ্গ একেবারেই নেই। সেনা কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও আহত হয়েছেন, অন্তত একজন সেনা অফিসার গুরুতর আহত। কিন্তু তাদের প্রতি কোনো সহমর্মিতা নেই।

তারা বলছেন, সহিংসতায় উপজাতি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সক্রিয় ভূমিকা ছিল—সেটা বিবৃতিতে ইচ্ছাকৃতভাবে আড়াল করা হয়েছে।

স্থানীয় সাংবাদিক মামুনুর রহমান বলেন, বাঙালিদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হলো, দোকানপাট পুড়লো, শিশুরা আতঙ্কে রাতে ঘুমোতে পারছে না। কিন্তু ওই নাগরিকদের বিবৃতিতে আমাদের দুঃখ নেই, কেবল উপজাতিদের ভিকটিম বানানো হয়েছে। এটা কি ন্যায়বিচারের দাবি, নাকি রাজনীতি?

বিশ্লেষকদের মতে, বিবৃতিতে যেসব দাবি করা হয়েছে তার কিছু মানবিকভাবে যৌক্তিক হলেও বেছে বেছে শুধু উপজাতি দুঃখকেই সামনে আনা এবং সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ড আড়াল করা—এটি একপেশে অবস্থান। এ ধরনের বিবৃতি উল্টো পাহাড়ি-বাঙালি বিভাজন বাড়াতে পারে।