পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আপদকালীন পরিস্থিতি মোকাবেলার নামে এই অর্থ বরাদ্দের পর তা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ নাহিদ ইসলাম স্বাক্ষরিত তিনটি পৃথক পরিপত্রে খাগড়াছড়িতে ১৮৫ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ৩ কোটি ১২ লাখ ৫০ হাজার, রাঙামাটিতে ৪৪ জনকে ১ কোটি ২২ লাখ ২০ হাজার এবং বান্দরবানে ৩ জনকে ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
পরিপত্রগুলো মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশের পর সমালোচনা শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে অভিযোগ করেন, এই বরাদ্দের বেশিরভাগই নামে-বেনামে আত্মসাৎ করা হয়েছে। তালিকায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতার পিতা, পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য এবং একটি আঞ্চলিক পত্রিকার সংস্কারের জন্য বরাদ্দও রয়েছে। খাগড়াছড়ির এক পরিবারের তিন সদস্যের নামও পাওয়া গেছে তালিকায়।
পার্বত্য চট্টগ্রাম সমঅধিকার আন্দোলনের খাগড়াছড়ি জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আসাদ উল্লাহ ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, “বরাদ্দ পাওয়া ৯০% ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কোনো অস্তিত্বই নেই। তদন্ত করে প্রকৃত সেবাগ্রহীতাদের মাঝে অর্থ বিতরণ করা হোক।”
রাঙামাটির সাংবাদিক আলমগীর মানিকও ফেসবুকে লিখেছেন, “বরাদ্দের তালিকাটি একবার দেখুন, আমি কিছু বললে মহান নেতারা চেতবেন।”
তবে, এ বিষয়ে পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা বলছেন, বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে এবং এটি দুর্নীতির উৎস হতে পারে। বরাদ্দপ্রাপ্তদের পরিচয় প্রকাশ না করায় জনগণের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে, যা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে। এ পরিস্থিতিতে, পার্বত্য অঞ্চলে বরাদ্দ কার্যক্রমে অধিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।

-পার্বত্য সময়