খাগড়াছড়ির কমলছড়িতে ব্যক্তিগত জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত একটি মারামারির ঘটনাকে ঘিরে পার্বত্য চট্টগ্রামে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল ও বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে এই ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক রূপ দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের অপচেষ্টা চলছে- এমন অভিযোগ উঠেছে আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফ (প্রসীত) ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে।

গত ১৪ জানুয়ারি খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার কমলছড়ি ইউনিয়নের খালপাড় এলাকায় বিরোধপূর্ণ জমির মালিকানাকে কেন্দ্র করে পাহাড়ি ও বাঙালি সম্প্রদায়ের কয়েকজন ব্যক্তির মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে তিনজন অবাঙালি ও একজন বাঙালি আহত হন। আহতদের খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং গুরুতর আহত বিমল ত্রিপুরাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, আলোচিত জমিটি ১৯৮২ সাল থেকে আবুল বাশির ভোগ করে আসছিলেন। সেখানে তিনি আম বাগান ও সবজি চাষ করতেন। ২০০৭ সালে তার শাশুড়ি নুর বানুর নামে জমির কাগজপত্র করা হয়। ২০২৪ সালে জমি পরিষ্কার করে আমের চারা রোপণ করলে থৈলাঅং চৌধুরী খাগড়াছড়ি আদালতে মামলা করেন। এর জেরে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মামলা হয়।

ঘটনার দিন থৈলাঅং চৌধুরীর পক্ষ থেকে বিরোধপূর্ণ আম বাগানের ময়লা পরিষ্কার করে আগুন দেওয়া হলে আবুল বাশিরের সঙ্গে তর্কাতর্কি শুরু হয়, যা একপর্যায়ে মারামারিতে রূপ নেয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে খাগড়াছড়ি সদর থানা পুলিশ ও কমলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের উদ্যোগে ১৫ জানুয়ারি একটি আপস-মীমাংসা হয়। সিদ্ধান্ত হয়- আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত জমিতে কেউ চাষাবাদ করতে পারবে না।

এ ঘটনায় উভয় পক্ষই পৃথক পৃথক মামলা দায়ের করে। আবুল বাশিরের করা মামলায় ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২০-২৫ জনকে আসামি করা হলেও কাউকে আটক করা হয়নি। অন্যদিকে থৈলাঅং চৌধুরীর করা মামলায় পুলিশ দুইজন বাঙালিকে আটক করে, যারা বর্তমানে খাগড়াছড়ি জেলা কারাগারে রয়েছেন।

এ ঘটনার ধারাবাহিকতায় ২৩ জানুয়ারি চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিমল ত্রিপুরার মৃত্যু হয়। এরপরই ঘটনাটি নতুন মোড় নেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউপিডিএফ (প্রসীত) নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে ঘটনাটিকে ‘বাঙালি সেটলার কর্তৃক পরিকল্পিত হামলা’ হিসেবে উপস্থাপন করে ব্যাপক অপপ্রচার শুরু হয়।

জনসংহতি সমিতি- জেএসএস (সন্তু) তাদের অনলাইন এক মুখপাত্রে দাবি করে, খাগড়াছড়ি সদরের কমলছড়ি ইউনিয়নের হেডম্যান পাড়ার অন্তর্ভুক্ত খালপাড় নামক স্থানে 'সেটেলার বাঙালি' কর্তৃক হামলার ঘটনায় গুরুতর আহত বিমল ত্রিপুরা মৃত্যুবরণ করেছেন।

এর আগে ২০ জানুয়ারি চট্টগ্রামের চেরাগী মোড়ে দুই পক্ষের এই মারামারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে 'অবিলম্বে রোডম্যাপ ঘোষণাপূর্বক পার্বত্য চুক্তি যথাযথ ও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন কর' শীর্ষক ব্যানারে প্রতিবাদ সমাবেশ করে দলটির সহযোগী সংগঠন পিসিপি। এই সমাবেশে বক্তারা একই সঙ্গে বান্দরবানের আলীকদমের একটি পৃথক ঘটনাকে যুক্ত করে পরিস্থিতিকে আরও উসকে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

May be an image of one or more people and text that says "ទសក្តង ရှ၀ বিউা 데지 MHERja 스토안관 oa aUA जाल নিব জুলর নিবা কিমা দযাপন কগিটি Bl "" 후는행게이인 መ RBERRY বান্দরবানে আলীকদমে সাসার সোপের ডপর রোহিঙগা ও সেটেলার বাঙালি কর্তুক হামলা এবং খাগড়াছড়ি কমলছুড়িতে মেটেলার বাঙালি কর্তৃক ভুমি বেদখল ও আদিবাসীদের উপর হামলার প্রতিবাদে ও উপযুক্ত শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, সময়: বিকাল টা। স্যানে: জাতীয় জাদুমরের সামনে শাহবাগ,ঢাকল ঢাকা আযোদের मजोी ਧाਨਨ 7"
ঢাকার শাহবাগে অবাঙালিদের  বিক্ষোভ সমাবেশ। ছবি- সংগৃহীত

ঢাকায় আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে ইউপিডিএফ (প্রসীত) নিয়ন্ত্রিত বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) ঢাকা শাখার ব্যানারে বক্তৃতা দেন সংগঠনের সভাপতি অমল ত্রিপুরা। তিনি কমলছড়ির ঘটনাকে ‘ভূমি বেদখলের উদ্দেশ্যে হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যা দেন।

এ ছাড়াও ওই সমাবেশে পুরনো কৌশলে সেনাবাহিনীকে বিতর্কে জড়ানোর চেষ্টা করা হয়। বক্তারা অভিযোগ করেন, সেনাবাহিনী যখন বাঙালিদের ওপর আক্রমণ করে তখন সেনাবাহিনী খারাপ, আর যখন পাহাড়িদের ওপর  আক্রমণ করে তখন উগ্র বাঙালি জাতীয়তাবাদীরা সেখানে বেশি বেশি ক্যাম্প স্থাপন করতে বলে।

পর্যবেক্ষকরা বলেন, এটি একটি ব্যক্তিগত জমি সংক্রান্ত বিরোধের ঘটনা হলেও ইউপিডিএফ (প্রসীত), জেএসএস (সন্তু)-সহ তাদের সমর্থকরা পরিকল্পিতভাবে একে সাম্প্রদায়িক ও রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে। ইউপিডিএফ আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে পার্বত্য চট্টগ্রামে অস্থিরতা সৃষ্টি এবং অবাঙালি ভোটব্যাংককে একতরফাভাবে নিজেদের পক্ষে এ অপতৎপরতা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, পার্বত্য চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করার হাতিহার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে।

তাদের মতে, পার্বত্য চট্টগ্রামে জেএসএস ও ইউপিডিএফ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আবেগ, ভয় ও বিভাজনের রাজনীতি জোরদার করতে চাইছে। একটি স্থানীয় জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করার এই চেষ্টা শুধু আইনশৃঙ্খলার জন্য নয়, বরং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশের জন্যও হুমকি হয়ে উঠছে। একইসাথে তারা ঘটনায় সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার প্রশংসা করেছেন।