বিজু উৎসব শেষে বাড়ি ফেরার পথে খাগড়াছড়িতে অপহৃত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষার্থীর এখনও কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। গত ১৬ এপ্রিল (বুধবার) সকালে খাগড়াছড়ির গিরিফুল এলাকা থেকে তাদের অপহরণ করা হয়। সোমবার (২১ এপ্রিল) ছয় দিন হলেও শিক্ষার্থীদের উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনও কার্যকর অগ্রগতি দেখাতে পারেনি।
অপহৃতরা হলেন- পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য রিশন চাকমা এবং তার চার বন্ধু: চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী মৈত্রীময় চাকমা, নাট্যকলা বিভাগের দিব্যি চাকমা, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের লংঙি ম্রো ও অলড্রিন ত্রিপুরা। তারা সবাই ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বিজু উদযাপন শেষে রাঙামাটি থেকে ফেরার পথে অপহরণকারীরা তাদের তুলে নেয়।
ঘটনার পর থেকে বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে 'আদিবাসী' ছাত্রসমাজ এবং বিভিন্ন সংগঠন রাস্তায় নামে। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করছেন, সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফ (প্রসীত খীসা) এই অপহরণের সঙ্গে জড়িত। তবে ইউপিডিএফ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
অপহরণ ও পার্বত্য রাঙামাটির কাউখালীতে পাহাড়ি এক ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। রোববার (২০ এপ্রিল) খাগড়াছড়ি শহরে আদিবাসী ছাত্র-সমাজের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল হয়। বিক্ষোভকারীরা বলেন, পাহাড়ে ক্রমবর্ধমান অপহরণ ও সহিংসতার পেছনে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা রয়েছে। সরকারের নীরবতা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা এসব অপকর্মে পরোক্ষ সহায়তা করছে।
রাঙামাটিতেও একই দাবিতে হয়েছে প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ। আদিবাসী ছাত্র ফোরামের নেতা ইন্টু মনি তালুকদার বলেন, “উৎসবের সময়ও পাহাড়ে ধর্ষণ-অপহরণ চালিয়ে যাচ্ছে সন্ত্রাসীরা। সরকার শুধু প্রতিশ্রুতি দেয়, কার্যকর পদক্ষেপ নেয় না।”
অপরদিকে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পুলিশ, বিজিবি ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সমন্বিত উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকাগুলোতে অভিযানের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বসানো হয়েছে তল্লাশিচৌকি। খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েল বলেন, “আমরা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছি। অপহৃতদের সন্ধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।”
তবে ছয় দিন পার হলেও শিক্ষার্থীদের অক্ষত অবস্থায় ফিরে পাওয়ার আশা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। পাহাড়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীর আধিপত্যের কারণে পাহাড়ি জনপদে উদ্বেগ, আতঙ্ক এবং ক্ষোভ বাড়ছে।

-পার্বত্য সময়